এক সময় পাখির ফ্লুর কারণে ডিমের তীব্র সংকটে ভুগেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাজারে ডিমের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, আর উৎপাদকরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ডিমের দাম তলানিতে নেমে এসেছে, আর এতে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছেন খামারিরা।
বিশেষ করে পারিবারিক মালিকানাধীন ছোট ও মাঝারি খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে। অনেক খামারি বলছেন, বর্তমান বাজারদরে ডিম বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।
অতিরিক্ত উৎপাদনে বাজারে চাপ
পাখির ফ্লুর প্রভাবে ডিমের সরবরাহ কমে যাওয়ার পর উৎপাদকরা ব্যাপক হারে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ান। অনেকে ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কায় নতুন মুরগি যুক্ত করেন, আবার কেউ উচ্চমূল্যের সুযোগ কাজে লাগাতে উৎপাদন বাড়ান।
ফলাফল হিসেবে এখন বাজারে ডিমের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে বাজারে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ডিম রয়েছে। এই অতিরিক্ত সরবরাহই দাম কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।
গত বছর যেখানে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ৮ ডলারেরও বেশি ছিল, সেখানে এখন তা ৬০ সেন্টের নিচে নেমে এসেছে। খুচরা বাজারেও ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ছোট খামারগুলোর উদ্বেগ
ডিমের দাম কমে যাওয়ায় বড় কোম্পানিগুলো কিছুটা চাপ সামলাতে পারলেও ছোট খামারগুলোর অবস্থা কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক খামারি আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি চললে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আয় কমে গেছে, অথচ উৎপাদন ব্যয় এখনো তুলনামূলক বেশি। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের প্রবণতা বাড়তে পারে।
![]()
ভোক্তারা কি পুরো সুবিধা পাচ্ছেন?
পাইকারি বাজারে দাম দ্রুত কমলেও ভোক্তারা সব ক্ষেত্রে তার পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। কারণ অনেক সুপারশপ, খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁ আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে তুলনামূলক বেশি দামে ডিম কিনেছে।
তবে খাদ্যসেবা খাতের জন্য কম দামের ডিম কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। অন্যান্য খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে ডিম এখন লাভজনক উপাদানে পরিণত হয়েছে।
রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার খোঁজ
দেশীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ সামাল দিতে উৎপাদকরা বিদেশি বাজারে নতুন সুযোগ খুঁজছেন। বিভিন্ন দেশে ডিম ও ডিমজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারলে অতিরিক্ত সরবরাহের একটি অংশ শোষণ করা সম্ভব হবে এবং দামও কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
পাখির ফ্লুর ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে
যদিও চলতি বছরে পাখির ফ্লুর প্রাদুর্ভাব আগের তুলনায় কমেছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। সাম্প্রতিক সময়েও কয়েকটি অঞ্চলে নতুন সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে।
খামারিরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি রোগের ঝুঁকিও তাদের বড় উদ্বেগের কারণ। কারণ নতুন করে বড় ধরনের সংক্রমণ দেখা দিলে আবারও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং বাজারে অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে।
এক বছর আগেও যেখানে ডিমের সংকট ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা, এখন অতিরিক্ত সরবরাহই হয়ে উঠেছে খাতটির প্রধান চ্যালেঞ্জ। ফলে উৎপাদকরা একদিকে কম দামের চাপ, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ রোগঝুঁকি—দুই দিক থেকেই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি রয়েছেন।
ডিমের অতিরিক্ত উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে দাম ধসে পড়েছে। এতে ক্ষতির মুখে ছোট খামারিরা, আর বাড়ছে খাতের অনিশ্চয়তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















