০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ডেঙ্গুতে আরও এক মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১৯৮ জন: আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৫,৫০০ বিশ্বকাপের অর্ধেক পথ পেরিয়ে নকআউট উত্তেজনা, মেসি-এমবাপ্পেদের চোখ এখন শিরোপায় বেইজিং বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সই হলো একাধিক সমঝোতা স্মারক প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ঝলমলে কানস লায়ন্স উপস্থিতি, গল্প বলার শক্তিকেই দিলেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব স্টেক রান্নার সাত কৌশল: ঘরেই রেস্তোরাঁর স্বাদ পাওয়ার সহজ উপায় জেন জেডের ‘ব্রিজেট জোন্স’ মিলি গোল্ডস্মিথ: একাকীত্ব, ভালোবাসা আর সোশ্যাল মিডিয়ার তারকাখ্যাতির গল্প নতুন গতি পাচ্ছে রেল সহযোগিতা, জুলাইয়ে ভারত থেকে আসছে ২০ যাত্রীবাহী কোচ লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজন  নিষেধাজ্ঞা শিথিলে  ইরানের তেল রপ্তানিতে আসতে পারে ৮৫০ কোটি ডলারের আয় চীনের পাল্লায় পৌঁছাতে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রে জোর, সামরিক আধুনিকীকরণে নতুন পর্যায়ে ভারত

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য, অর্থনীতিতে কি আসবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। এই কূটনৈতিক সাফল্যের ফলে দেশটির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই অর্জন কি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ সহজ করতে পারবে?

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান অংশ নেন। কয়েক মাস ধরে চলা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক বিশ্বনেতা ইসলামাবাদকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অর্থনৈতিক সুযোগের নতুন সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক সাফল্য পাকিস্তানের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ সংকট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা।

An economist explains: What you need to know about inflation, ETAuto

সরকার আগামী অর্থবছরে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ৮ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নীতিনির্ধারকদের আশা, আন্তর্জাতিক আস্থার উন্নতি হলে অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি, শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগও বাড়বে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হলে পাকিস্তান আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

বিশ্লেষকরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০১ সালের পরও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছিল। সে সময় ঋণ পুনর্গঠন, বহুপক্ষীয় আর্থিক সহায়তা এবং বিদেশি সমর্থনের সুযোগ তৈরি হলেও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশটি সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে অক্টোবরে চীনের রপ্তানিতে পতন

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড় পার্থক্য হলো এবার পাকিস্তান সংঘাতের অংশ নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দেশটির কূটনৈতিক প্রভাব আগের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

সংস্কার ছাড়া সংকট কাটবে না

অর্থনীতিবিদদের বড় একটি অংশ মনে করেন, কূটনৈতিক সাফল্য ইতিবাচক হলেও তা একা অর্থনীতির গভীর সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, দুর্বল রপ্তানি সক্ষমতা, সীমিত করভিত্তি, সামাজিক বৈষম্য এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ এখনো পাকিস্তানের বড় চ্যালেঞ্জ।

তাদের মতে, বিদেশি সহায়তা বা সাময়িক আর্থিক সুবিধার চেয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

শান্তিকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার সুযোগ এখন পাকিস্তানের সামনে রয়েছে। তবে সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংস্কার, সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও স্থায়ী উন্নতির জন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও এক মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১৯৮ জন: আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৫,৫০০

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য, অর্থনীতিতে কি আসবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার?

১২:০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। এই কূটনৈতিক সাফল্যের ফলে দেশটির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই অর্জন কি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ সহজ করতে পারবে?

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান অংশ নেন। কয়েক মাস ধরে চলা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক বিশ্বনেতা ইসলামাবাদকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অর্থনৈতিক সুযোগের নতুন সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক সাফল্য পাকিস্তানের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ সংকট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা।

An economist explains: What you need to know about inflation, ETAuto

সরকার আগামী অর্থবছরে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ৮ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নীতিনির্ধারকদের আশা, আন্তর্জাতিক আস্থার উন্নতি হলে অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি, শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগও বাড়বে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হলে পাকিস্তান আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

বিশ্লেষকরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০১ সালের পরও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছিল। সে সময় ঋণ পুনর্গঠন, বহুপক্ষীয় আর্থিক সহায়তা এবং বিদেশি সমর্থনের সুযোগ তৈরি হলেও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশটি সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে অক্টোবরে চীনের রপ্তানিতে পতন

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড় পার্থক্য হলো এবার পাকিস্তান সংঘাতের অংশ নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দেশটির কূটনৈতিক প্রভাব আগের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

সংস্কার ছাড়া সংকট কাটবে না

অর্থনীতিবিদদের বড় একটি অংশ মনে করেন, কূটনৈতিক সাফল্য ইতিবাচক হলেও তা একা অর্থনীতির গভীর সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, দুর্বল রপ্তানি সক্ষমতা, সীমিত করভিত্তি, সামাজিক বৈষম্য এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ এখনো পাকিস্তানের বড় চ্যালেঞ্জ।

তাদের মতে, বিদেশি সহায়তা বা সাময়িক আর্থিক সুবিধার চেয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

শান্তিকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার সুযোগ এখন পাকিস্তানের সামনে রয়েছে। তবে সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংস্কার, সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও স্থায়ী উন্নতির জন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।