প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) মধ্যে আরও কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সোমবার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ও ব্র্যাকের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “পিইডিপি-৫-এর আওতায় রূপান্তরমূলক প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সরকার-এনজিও সহযোগিতা সংলাপ” অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে।
সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা
সংলাপে পিইডিপি-৫ বাস্তবায়নের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সরকার ও এনজিওর মধ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শিশুদের প্রাথমিক সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, দুর্গম এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, এনজিওগুলোর তথ্য জাতীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা এবং বিদ্যালয়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ওয়াশ (WASH) কার্যক্রম জোরদার করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।

শেখার ফল উন্নয়নই প্রধান লক্ষ্য
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিইডিপি-৪-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। পরে প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এনগেজমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক কে এ এম মোরশেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন বিভাগের পরিচালক সাফি রহমান খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখার ফল উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, এনজিও এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারকে পিইডিপি-৫-এর পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শিক্ষা সংস্কারের প্রতিটি ধাপে শেখার ফলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
এনজিওর ভূমিকার গুরুত্ব
ববি হাজ্জাজ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত কাজ করার সক্ষমতার কারণে এনজিওগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। টেকসই ও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে—এমন উদ্যোগ গ্রহণে তিনি সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে শাহিনা ফেরদৌসী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তারে এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নীতিনির্ধারণ, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন—সব ক্ষেত্রেই তাদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ
ফরিদ আহমেদ বলেন, সরকার ও এনজিওর মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা শিক্ষা খাতে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সফল উদ্যোগ বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এনজিওগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব উদ্যোগের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার মান উন্নয়নের ওপর।
মো. আব্দুর রহিম বলেন, প্রতিটি অভিভাবকের প্রত্যাশা থাকে তাদের সন্তান সফলভাবে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাধ্যমিক স্তরে প্রবেশ করবে। সেই লক্ষ্য পূরণে সব অংশীজনকে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিস্তৃত অংশগ্রহণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ এবং ক্যাম্পের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি-৪-এর উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আতাউর রহমান।
পরে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের সঞ্চালনায় পৃথক এক কর্মপরিকল্পনা ও মতৈক্য গঠন অধিবেশনে আহ্ছানিয়া মিশন, বি-স্ক্যান, এডুকো বাংলাদেশ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেন, বিএআইইডিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পিইডিপি-৫ বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
প্রাথমিক শিক্ষায় পিইডিপি-৫ বাস্তবায়নে সরকার-এনজিও অংশীদারিত্ব জোরদারে সংলাপ, শেখার মানোন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















