মডেল ও অভিনেতা আদিল হোসাইন নোবেল আবারও বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করেছেন। চলমান বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনার সময়ে তিনি বলেছেন, তার স্বপ্ন বাংলাদেশকে একদিন বিশ্বকাপে দেখা। বক্তব্যটি আবেগের হলেও এর ভেতরে বাংলাদেশের ফুটবল বাস্তবতা, দর্শকের আকাঙ্ক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্নের প্রতিধ্বনি আছে।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ এলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা অন্য আন্তর্জাতিক দলের সমর্থনে রাস্তাঘাট, ছাদ, দোকান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায়। কিন্তু সেই উৎসবের মাঝেই একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে, বাংলাদেশ নিজে কবে বিশ্বমঞ্চে খেলবে। নোবলের বক্তব্য সেই অনুভূতিকেই নতুন করে সামনে এনেছে। একজন জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মুখে ফুটবল স্বপ্ন উচ্চারিত হলে তা শুধু ক্রীড়া সংবাদ নয়, সাংস্কৃতিক গল্পও হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে আবেগের অভাব নেই। কিন্তু আবেগকে বিশ্বকাপ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলা, স্কুল ফুটবল, ক্লাব কাঠামো, প্রশিক্ষণের মান, তথ্যভিত্তিক খেলোয়াড় বাছাই এবং পেশাদার লিগ সংস্কার দরকার। শুধু জাতীয় দলের ফল দেখলে হবে না, বিশ্বকাপে পৌঁছাতে হলে দশ বছর ধরে খেলোয়াড় তৈরি, শরীরচর্চা সংস্কৃতি, ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগ একসঙ্গে এগোতে হয়। নোবেলের স্বপ্ন তাই বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষ করলেও তা অমূল্য, কারণ জাতীয় ক্রীড়া সংস্কৃতিতে স্বপ্নও চাপ তৈরি করে। দর্শক যখন বারবার জানতে চান বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপে নেই, তখন ফেডারেশন, ক্লাব, করপোরেট পৃষ্ঠপোষক এবং সরকারের ওপর দায় বাড়ে। প্রয়োজন পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য, যেমন বয়সভিত্তিক দলকে শক্তিশালী করা, নারী ফুটবলের সাফল্য থেকে শেখা, আঞ্চলিক খেলোয়াড় খোঁজা বাড়ানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলারদের জন্য পথ তৈরি করা।
নোবেলের মন্তব্য আবেগের হলেও এটি একটি পুরোনো বাস্তবতাকেই সামনে আনে, বাংলাদেশের ফুটবলে ভক্তের সংখ্যা যতটা বিশাল, অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ততটাই সীমিত। বিশ্বকাপ প্রতি চার বছরে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট করে তোলে। তারকাদের কণ্ঠ থেকে উঠে আসা এই ধরনের আহ্বান যদি শুধু মৌসুমি আবেগে থেমে না গিয়ে ফেডারেশন ও পৃষ্ঠপোষকদের ওপর প্রকৃত চাপ তৈরি করতে পারে, তাহলে এর মূল্য আছে। অন্যথায় প্রতি বিশ্বকাপে একই স্বপ্ন নতুন করে বলা হবে, বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছাড়াই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















