এআই দিয়ে চালিত প্রেমের প্রতারণা এখন আর শুধু ভুয়া প্রোফাইল বা মিথ্যা ভালোবাসার গল্পে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় প্রতারকরা দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদের পরিচয় ব্যবহার করে বাস্তবসদৃশ ভুয়া ভিডিও কল ও প্রেমের বার্তার মাধ্যমে এক ফিলিপিনো গৃহকর্মীকে ফাঁদে ফেলে। ভুক্তভোগী মারিয়া নামে পরিচিত নারী প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় এক লাখ ফিলিপিনো পেসো, প্রায় ১,৬২৫ ডলার, হারিয়েছেন।
প্রতারণাটি ডেটিং সাইট থেকে শুরু হয়ে হোয়াটসঅ্যাপে গড়ায়। প্রতারক নিজেকে রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেয়, স্নেহময় বার্তা পাঠায় এবং বাস্তবসদৃশ ভুয়া ভিডিও কল ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। পরে ভুয়া বিয়ের সনদ, রাজকীয় সদস্যপদ কার্ড এবং দুবাই যাওয়ার কল্পিত প্রস্তুতির নামে অর্থ চাওয়া হয়। আরও টাকা চাইলে ভুক্তভোগী সন্দেহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের উৎস খুঁজে নাইজেরিয়ার সংযোগ দেখতে পান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা পুরোনো অপরাধ, কিন্তু এআই এটিকে আরও বিপজ্জনক করেছে। আগে ভুয়া ছবি বা মুখস্থ বার্তা দিয়ে প্রতারণা হতো। এখন বাস্তবসদৃশ ভুয়া ভিডিও, কণ্ঠস্বর নকল, অনুবাদ টুল এবং স্বয়ংক্রিয় কথোপকথন ব্যবহার করে প্রতারকরা একসঙ্গে অনেক মানুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের অভিনয় করতে পারে। একাকিত্ব, বিদেশে কাজের চাপ, উন্নত জীবনের আশা এবং তারকা মুগ্ধতা, এসব দুর্বলতাকে তারা টার্গেট করে। বাংলাদেশের জন্য এই গল্প অচেনা নয়। প্রবাসী শ্রমিক, গৃহকর্মী, শিক্ষার্থী, মধ্যম আয়ের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, সবাই প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা বা বিনিয়োগ প্রতারণার ঝুঁকিতে আছেন। সতর্কতার নিয়ম সহজ, কিন্তু মানা কঠিন। অনলাইনে পরিচিত কেউ টাকা চাইলে, নথির খরচ চাইলে, ভ্রমণ খরচ চাইলে বা গোপন সম্পর্কের চাপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে। ভিডিও কল দেখলেই সত্য ধরে নেওয়া যাবে না।
এই ঘটনার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো প্রতারক পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য পরিচয়, রাজপরিবারের নাম ব্যবহার করেছে, যা ভুক্তভোগীর সন্দেহ দূর করতে সাহায্য করেছে। বাস্তবসদৃশ ভুয়া ভিডিও কল প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে, যেখানে আগে শুধু লেখা বার্তায় সন্দেহ করা সহজ ছিল। প্রবাসী শ্রমিক, বিশেষ করে যারা একাকী বিদেশে থাকেন, তাদের জন্য এই ধরনের মানসিক ফাঁদ আরও কার্যকর। পরিচয় যাচাই ও ভিডিও কলের বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের অভ্যাস তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















