এআই দিয়ে চালিত প্রতারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, আর এই প্রবণতাকে অনেক পর্যবেক্ষক ২০২৬ সালের প্রতারণার মহামারি বলছেন। ডয়চে ভেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাস্তবসদৃশ ভুয়া ভিডিও, এআইয়ে তৈরি ফিশিং বার্তা, কণ্ঠস্বর নকল এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতারণার বিস্তার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অপরাধীরা এখন মানুষের মুখ, কণ্ঠ, ভাষা, অফিসের ইমেইল শৈলী, এমনকি পারিবারিক জরুরি বার্তা পর্যন্ত নকল করতে পারছে।
প্রতারণার ধরন বদলে গেছে। আগে ভুয়া ইমেইলে বানান ভুল, অস্বাভাবিক ভাষা বা অদ্ভুত লিংক দেখে সতর্ক হওয়া সহজ ছিল। এখন এআই দিয়ে স্থানীয় ভাষায় স্বাভাবিক বার্তা লেখা যায়, পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠ নকল করা যায় এবং ভুয়া ভিডিও বানানো যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ প্রতিবেদন ঘিরে প্রকাশিত বিশ্লেষণেও এই ধরনের প্রতারণার আর্থিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। ভুক্তভোগীরা অনেক সময় বোঝেনই না তারা মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, নাকি প্রতারণার জন্য তৈরি স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্টের সঙ্গে।

এআইয়ের প্রতারণা বড় হওয়ার কারণ তিনটি। প্রথমত, প্রযুক্তি সস্তা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মানুষের ছবি, কণ্ঠ, আত্মীয়ের নাম, কর্মস্থল, ভ্রমণ, স্কুল, সব তথ্য পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, দ্রুত পেমেন্ট ও ক্রিপ্টো স্থানান্তর টাকা উদ্ধারের সুযোগ কমিয়ে দেয়। অপরাধীরা মানুষের ভয়, লোভ, একাকিত্ব, চাকরির প্রয়োজন, প্রেম, পারিবারিক জরুরি অবস্থা এবং সরকারি জরুরিতা ব্যবহার করে। বাংলাদেশে এই ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাণিজ্য এবং বিদেশে থাকা পরিবারের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান ব্যাপক। এই প্রতারণা ঠেকাতে শুধু পুলিশের সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়। পরিবারে যাচাইয়ের নিয়ম দরকার, যেমন জরুরি টাকা চাইলে দ্বিতীয় নম্বরে ফোন করে নিশ্চিত হওয়া, গোপন সংকেত শব্দ ঠিক করা, ভিডিও যাচাইয়ে সন্দেহ হলে বিরতি নেওয়া, লিংক না খোলা এবং একবারের পাসওয়ার্ড কাউকে না দেওয়া।
এই প্রতিবেদনের গুরুত্ব সংখ্যায় নয়, প্রবণতায়। প্রতারণার পদ্ধতি এখন বড় আকারে চালানো সম্ভব, একই সময়ে হাজারো মানুষকে টার্গেট করা যায়, কারণ এআই ভাষা, কণ্ঠ ও ভিডিও তৈরির খরচ কমিয়ে দিয়েছে। আগে যা দক্ষ প্রতারকের একক কাজ ছিল, এখন তা স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্ট দিয়ে সম্ভব। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে যাচাইয়ের দ্বিতীয় স্তর তৈরি করা, যেমন জরুরি অর্থ চাওয়া হলে দ্বিতীয় নম্বরে কল করে নিশ্চিত হওয়া, এখন বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনীয়তা। এআই যত উন্নত হবে, মানুষের সন্দেহ করার অভ্যাসও তত নিয়মভিত্তিক হতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















