সন্তানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ এখন অভিভাবকদের সতর্ক করছে, কারণ নিরীহ ছবি থেকেও এআই দিয়ে তৈরি শিশু নিপীড়নমূলক ছবি তৈরি করা হতে পারে। জাতীয় অপরাধ সংস্থা এবং ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন নতুন নির্দেশিকা দিয়ে বলেছে, শিশুদের ছবি প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে রাখার ঝুঁকি নতুনভাবে ভাবতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৮,০২৯টি এআইয়ে তৈরি শিশু নিপীড়নমূলক ছবি চিহ্নিত হয়েছে। ছবি বিকৃত করার অ্যাপ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীরা বাস্তব ছবি থেকে ক্ষতিকর বিষয়বস্তু বানাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর সঙ্গে অপরাধীর সরাসরি যোগাযোগও দরকার হয় না। শুধু প্রকাশ্য প্রোফাইল, স্কুলের অনুষ্ঠানের ছবি, খেলাধুলার ক্লাবের ছবি বা পারিবারিক অ্যালবাম থেকেই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
![]()
এই সতর্কতা অভিভাবকদের দোষারোপ নয়, বরং ডিজিটাল সম্মতির নতুন বাস্তবতা বোঝানো। শিশুরা নিজের ছবি কোথায় যাবে, কে দেখবে, ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা সবসময় বুঝতে পারে না। আবার বাবা-মা অনেক সময় ভালোবাসা বা স্মৃতি হিসেবে ছবি দেন, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের গোপনীয়তা নীতি, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভাবেন না। একবার ছবি অনলাইনে গেলে সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বাংলাদেশেও এই আলোচনা জরুরি। স্কুল, কোচিং, জন্মদিন, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, ধর্মীয় উৎসব, ভ্রমণের ছবি, সব জায়গায় শিশুদের ছবি অনলাইনে দেওয়া হয়। সতর্কতার সহজ উপায় হলো প্রকাশ্য পোস্ট কমানো, ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা ব্যক্তিগত গ্রুপ ব্যবহার, শিশুর স্কুলের নাম, অবস্থান, পোশাক বা দৈনন্দিন রুটিন প্রকাশ না করা, পুরোনো পোস্ট পর্যালোচনা করা এবং স্কুল-ক্লাবকে ছবির সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন করা।
এই সতর্কতার মূল বার্তা অভিভাবকদের দোষারোপ নয়, বরং প্রযুক্তির নতুন বাস্তবতা তুলে ধরা। ৮,০২৯টি চিহ্নিত ছবি দেখায় সমস্যাটি প্রান্তিক নয়, বরং দ্রুত বাড়ছে, এবং এর জন্য শিশুর সঙ্গে অপরাধীর সরাসরি যোগাযোগেরও প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশে স্কুল, জন্মদিন বা ভ্রমণের ছবি অবাধে পোস্ট করার সংস্কৃতি ব্যাপক। গোপনীয়তা সেটিং কড়া করা, শিশুর নাম-স্কুল-অবস্থান প্রকাশ না করা এবং পুরোনো পোস্ট নিয়মিত পর্যালোচনা করা, এই ছোট অভ্যাসগুলোই আজকের নিরাপদ ছবিকে আগামীর ঝুঁকি হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















