১২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
মার্কিন গ্যাস কূটনীতিতে চাপে ইউরোপ, পশ্চিম বলকানে বাড়ছে নতুন প্রভাবের লড়াই ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন মুখ? জর্ডান বারদেলা কি হতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আপসের আশা, বাস্তবের সংঘাত: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে থামছে না উত্তেজনা আজ কেন মুখোমুখি তুরস্ক ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নতুন শক্তির লড়াই উগান্ডায় সংবাদমাধ্যমের ওপর সামরিক চাপ, উত্তরাধিকার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও বার্তা, আফ্রিকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের উত্থান: দুর্বল নেটওয়ার্কে ভরসা এখন আকাশে আফ্রিকার শহরতলিতে মধ্যবিত্তের উত্থান, বদলে যাচ্ছে নগরায়ণের নতুন মানচিত্র বাংলাদেশের বাইরে ব্রাজিলে চীনা ব্র্যান্ডের ঝড়, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে বাজার ক্যারিবীয় অঞ্চলে কীটনাশকের বিষাক্ত ফাঁদ, কৃষি থেকে জনস্বাস্থ্য—সবখানেই বাড়ছে উদ্বেগ প্রথম ধাক্কার পরও থামেনি সংকট: ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে ক্ষোভ, চাপে অন্তর্বর্তী সরকার

ইমরান খান বনাম আসিম মুনির: পাকিস্তানের ক্ষমতার লড়াই কোথায় গিয়ে থামবে?

পাকিস্তানের রাজনীতি এখন কার্যত দুই ব্যক্তিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, যিনি কারাগারে থেকেও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। অন্যজন সেনাপ্রধান আসিম মুনির, যিনি দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব এখন শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অন্যতম বড় নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

ক্ষমতার শীর্ষ থেকে কারাগারে

ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিতে এসে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান খান। শুরুতে সেনাবাহিনীর সমর্থন পেলেও সময়ের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পরে দুর্নীতির একটি মামলায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

তবে কারাগারে যাওয়ার পরও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং অনেকের কাছে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

আসিম মুনিরের শক্ত অবস্থান

পারমাণবিক শক্তির রাজাও এখন আসিম মুনির

অন্যদিকে সেনাপ্রধান আসিম মুনির গত কয়েক বছরে নিজের ক্ষমতার ভিত্তি আরও বিস্তৃত করেছেন। অতীতে ইমরান খান তাঁকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। পরে সেনাপ্রধান হওয়ার পর তিনি সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব আরও সুসংহত করেন এবং নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন।

একই সময়ে সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর সেনাবাহিনীর প্রভাবও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ইমরান খানের দলকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় দলটির অংশগ্রহণও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কারাগারে ইমরানের দিনযাপন

ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হলেও সেটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের মতে, দীর্ঘ বন্দিজীবনের মাধ্যমে তাঁর মানসিক শক্তি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে তাঁদের দাবি, ইমরান এখনও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি।

রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর

৭ দিন নীরবতার পর ইমরানের টুইট, ভেঙে দিলেন দলের রাজনৈতিক কমিটি | The Daily  Star

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খানের মুক্তির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সেনাপ্রধানের দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তবে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা সরকার ও ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন কোনো সংকট দেখা দিলে কিংবা জনঅসন্তোষ আরও বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতি ও জনঅসন্তোষের চাপ

রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি পাকিস্তান অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়েও যাচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সাম্প্রতিক একটি আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলও ক্ষমতাসীনদের জন্য ইতিবাচক ছিল না।

এসব কারণে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর সংকুচিত হওয়ায় সেই পরিবর্তনের পথ এখনও স্পষ্ট নয়।

সমঝোতার সম্ভাবনা দূরে

আমার কিছু হলে দায়ী থাকবেন সেনাপ্রধান মুনির: ইমরান খান

ইমরান খান ও আসিম মুনিরের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত খুবই ক্ষীণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী রাজনীতিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ সেই বার্তাই দিচ্ছে।

অন্যদিকে ইমরান খানও আপসের কোনো ইঙ্গিত দেননি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এখনও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অটল এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। ফলে পাকিস্তানের রাজনীতিতে এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির সংঘাত আগামী দিনেও দেশটির ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাকিস্তানের বর্তমান বাস্তবতায় ব্যক্তিগত বিরোধ এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্ষমতার এই দীর্ঘ দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত দেশটিকে কোন পথে নিয়ে যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন গ্যাস কূটনীতিতে চাপে ইউরোপ, পশ্চিম বলকানে বাড়ছে নতুন প্রভাবের লড়াই

ইমরান খান বনাম আসিম মুনির: পাকিস্তানের ক্ষমতার লড়াই কোথায় গিয়ে থামবে?

১১:০১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের রাজনীতি এখন কার্যত দুই ব্যক্তিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, যিনি কারাগারে থেকেও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। অন্যজন সেনাপ্রধান আসিম মুনির, যিনি দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব এখন শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অন্যতম বড় নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

ক্ষমতার শীর্ষ থেকে কারাগারে

ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিতে এসে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান খান। শুরুতে সেনাবাহিনীর সমর্থন পেলেও সময়ের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পরে দুর্নীতির একটি মামলায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

তবে কারাগারে যাওয়ার পরও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং অনেকের কাছে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

আসিম মুনিরের শক্ত অবস্থান

পারমাণবিক শক্তির রাজাও এখন আসিম মুনির

অন্যদিকে সেনাপ্রধান আসিম মুনির গত কয়েক বছরে নিজের ক্ষমতার ভিত্তি আরও বিস্তৃত করেছেন। অতীতে ইমরান খান তাঁকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। পরে সেনাপ্রধান হওয়ার পর তিনি সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব আরও সুসংহত করেন এবং নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন।

একই সময়ে সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর সেনাবাহিনীর প্রভাবও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ইমরান খানের দলকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় দলটির অংশগ্রহণও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কারাগারে ইমরানের দিনযাপন

ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হলেও সেটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের মতে, দীর্ঘ বন্দিজীবনের মাধ্যমে তাঁর মানসিক শক্তি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে তাঁদের দাবি, ইমরান এখনও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি।

রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর

৭ দিন নীরবতার পর ইমরানের টুইট, ভেঙে দিলেন দলের রাজনৈতিক কমিটি | The Daily  Star

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খানের মুক্তির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সেনাপ্রধানের দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তবে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা সরকার ও ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন কোনো সংকট দেখা দিলে কিংবা জনঅসন্তোষ আরও বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতি ও জনঅসন্তোষের চাপ

রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি পাকিস্তান অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়েও যাচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সাম্প্রতিক একটি আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলও ক্ষমতাসীনদের জন্য ইতিবাচক ছিল না।

এসব কারণে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর সংকুচিত হওয়ায় সেই পরিবর্তনের পথ এখনও স্পষ্ট নয়।

সমঝোতার সম্ভাবনা দূরে

আমার কিছু হলে দায়ী থাকবেন সেনাপ্রধান মুনির: ইমরান খান

ইমরান খান ও আসিম মুনিরের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত খুবই ক্ষীণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী রাজনীতিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ সেই বার্তাই দিচ্ছে।

অন্যদিকে ইমরান খানও আপসের কোনো ইঙ্গিত দেননি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এখনও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অটল এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। ফলে পাকিস্তানের রাজনীতিতে এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির সংঘাত আগামী দিনেও দেশটির ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাকিস্তানের বর্তমান বাস্তবতায় ব্যক্তিগত বিরোধ এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্ষমতার এই দীর্ঘ দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত দেশটিকে কোন পথে নিয়ে যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।