দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ফেরার পথ আরও উন্মুক্ত হলো। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি রাশিয়ার অলিম্পিক কমিটির ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে রুশ ক্রীড়াবিদরা আবারও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে এখনও রাশিয়া অলিম্পিকে নিজেদের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত বা সরকারি পরিচয়ে অংশ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাশিয়ার ফেরার পথ কেন খুলল
২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে ২০২৩ সালে রাশিয়ার অলিম্পিক কমিটিকে স্থগিত করা হয়, কারণ তারা ইউক্রেনের দখলকৃত কয়েকটি অঞ্চলের ক্রীড়া সংস্থাকে নিজেদের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
এবার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি জানিয়েছে, রাশিয়ার অলিম্পিক কমিটি ওই অঞ্চলগুলোতে আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করবে না বলে নিশ্চিত করেছে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই স্থগিতাদেশ শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

ক্রীড়াবিদদের দায়ী করতে চায় না অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি বলেছেন, কোনো যুদ্ধই সমর্থনযোগ্য নয় এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তবে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য ক্রীড়াবিদদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয় বলেই সংস্থাটির অবস্থান।
তার মতে, যোগ্য ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত এবং সেই নীতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে। তাদের আশা, এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনও ধীরে ধীরে রুশ ক্রীড়াবিদদের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
এর আগে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক এবং ২০২৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিকে রুশ ক্রীড়াবিদরা নিরপেক্ষ পরিচয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
ইউক্রেনের আপত্তি ও বিতর্ক
অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির কর্মকর্তারা এটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতীক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
কয়েকজন ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়াবিষয়ক অধিকার সংগঠনও অভিযোগ করেছে, চলমান সংঘাত ও অতীতের ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।

সব খেলায় ফিরতে পারবে না রাশিয়া
যদিও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সিদ্ধান্ত রাশিয়ার জন্য বড় অগ্রগতি, তবুও সব খেলায় তাৎক্ষণিকভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ মিলছে না। অনেক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন এখনও নিজেদের পৃথক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
বিশেষ করে অ্যাথলেটিকসে রুশ ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ফলে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের চিত্র এক নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
ডোপিং ইস্যুও রয়ে গেছে
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় প্রত্যাবর্তনের পথে অতীতের ডোপিং বিতর্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে রুশ ক্রীড়াবিদদের কঠোর ডোপিংবিরোধী সব নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
আগামী মাসগুলোতে বিভিন্ন অলিম্পিক বাছাইপর্ব শুরু হলে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তন কতটা সম্ভব হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















