১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান ছেলের হামলায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল বাবার সিলেটে রবিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না, জরুরি মেরামতে ভোগান্তির শঙ্কা কুয়াকাটার সৈকতে বিরল অলিভ রিডলি কচ্ছপ উদ্ধার, বাড়ছে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবি ইসরায়েলের নতুন হামলায় আবারও উত্তপ্ত দক্ষিণ লেবানন কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত আরও দুইজন পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের, “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”

জীবন আমার বোন (পর্ব-১৭)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪
  • 111

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘জবাব দেবার মুরোদ থাকলে তো জবাব দেবে! আমি জানি এসবের কোনো একটারও জবাব তোমার নিজের জানা নেই।’ নীলাভাবী কোমর বেঁধে শুরু করলে এবার, ‘সত্যি, এক একটা আকস্মিক ঘটনায় এমনভাবে চোখ খুলে যায়, ভাগ্যিশ তোমার দেখা পেয়েছিলাম, তোমার সঙ্গে আলাপ হয়েছিলো, তা না হ’লে যথেষ্ট বিপদ ছিলো আমার নিজেকে নিয়ে। তোমার হয়তো কথাটা পুরোপুরি বিশ্বাস হবে না, নিজেকে নিয়ে নিজের কাছে এখন কোনো সমস্যাই নেই আমার। এসব সহজে বিশ্বাস করতে কেউ বড় একটা চায়ও না।

কেন চাইবে, অকারণে রাজ্যির যতো জঞ্জাল জড়ো করাটা যখন মানুষের জন্মগত দোষ, সেখানে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি খুব ভালো ক’রেই জানি, নিজের সম্পর্কে আমার ধারণাগুলো কড়ায়-ক্রান্তিতে নির্ভুল। নিজেকে জটিল অঙ্কের সামিল ক’রে ফল মেলাতে না পারার মতো মর্মান্তিক আর কিছু নেই; ঘৃণা করি আমি এইসব বানোয়াট জটিলতাকে। দৈব-দুর্বিপাকেও যদি আমাকে তার ধারালো খপ্পরে পড়তে হয়, আমি গা বাঁচিয়ে, নিজের শরীরে একটি আঁচড়ও না লাগিয়ে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করবো।

বুঝি না, সংসারের সবাই সবকিছুকে সহজে নিতে পারে না কেন। সহজভাবে নিতে না পারলেই সবকিছু দুর্ভার মনে হ’তে থাকে’এই পর্যন্ত এসে থামলো নীলাভাবী। যতদূর আন্দাজ করতে পারে খোকা তাতে তার মনে হয় এটা একটা ভূমিকা মাত্র। নীলাভাবীর চোখমুখ চলকে উঠছে, একটা কিছু প্রবলভাবে তোলপাড় ক’রে চলেছে ভিতরে ভিতরে; অসংখ্য পলকাটা একটা নীলকান্ত মণির মতোই রহস্য- ময় দ্যুতি ঠিকরে পড়ছে অন্তস্তল থেকে।

‘খোকা, তুমি জানো বা না জানো, আজ মুখ ফুটে একটা কথা তোমার কাছে অকপটে স্বীকার করবো, সত্যিই আমি তোমাকে ভালবাসি একথায় বড় বড় চোখে তাকালো থোকা; তার ধারণা ছিলো একমাত্র বইপত্রেই এইসব কথা স্থান পায়, কিংবা যখন মুদ্রণপ্রমাদ ঘটে তখন ‘ব্লাউসের বোতাম খুলতে ভালবাসির’ স্থলে ওই কথা ছাপা হয়।

‘কবে থেকে জানো? মনে কারো না একেবারে সেই প্রথমদিন থেকে। প্রথম যেদিন তুমি তোমার রাজীব ভাইয়ের সাথে এ বাড়িতে এলে, তখন তো আমি তোমাকে দেখে প্রায় হেসেই ফেলেছিলাম। এককালে ওনার কোকেন খাওয়ার মতো বড়শিতে মাছ ধরারও বেজায় নেশা ছিলো। আমার মনে হ’লো নেশাটা আবার চাগান দিয়েছে, সঙ্গে তাই অমন একটা লিকলিকে ছিপ-‘ বাধা দিলে খোকা। বললে, ‘ছিপই-তো। ছিপ না হ’লে কি আর মাছ গাঁথে ?’

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা

জীবন আমার বোন (পর্ব-১৭)

১১:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘জবাব দেবার মুরোদ থাকলে তো জবাব দেবে! আমি জানি এসবের কোনো একটারও জবাব তোমার নিজের জানা নেই।’ নীলাভাবী কোমর বেঁধে শুরু করলে এবার, ‘সত্যি, এক একটা আকস্মিক ঘটনায় এমনভাবে চোখ খুলে যায়, ভাগ্যিশ তোমার দেখা পেয়েছিলাম, তোমার সঙ্গে আলাপ হয়েছিলো, তা না হ’লে যথেষ্ট বিপদ ছিলো আমার নিজেকে নিয়ে। তোমার হয়তো কথাটা পুরোপুরি বিশ্বাস হবে না, নিজেকে নিয়ে নিজের কাছে এখন কোনো সমস্যাই নেই আমার। এসব সহজে বিশ্বাস করতে কেউ বড় একটা চায়ও না।

কেন চাইবে, অকারণে রাজ্যির যতো জঞ্জাল জড়ো করাটা যখন মানুষের জন্মগত দোষ, সেখানে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি খুব ভালো ক’রেই জানি, নিজের সম্পর্কে আমার ধারণাগুলো কড়ায়-ক্রান্তিতে নির্ভুল। নিজেকে জটিল অঙ্কের সামিল ক’রে ফল মেলাতে না পারার মতো মর্মান্তিক আর কিছু নেই; ঘৃণা করি আমি এইসব বানোয়াট জটিলতাকে। দৈব-দুর্বিপাকেও যদি আমাকে তার ধারালো খপ্পরে পড়তে হয়, আমি গা বাঁচিয়ে, নিজের শরীরে একটি আঁচড়ও না লাগিয়ে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করবো।

বুঝি না, সংসারের সবাই সবকিছুকে সহজে নিতে পারে না কেন। সহজভাবে নিতে না পারলেই সবকিছু দুর্ভার মনে হ’তে থাকে’এই পর্যন্ত এসে থামলো নীলাভাবী। যতদূর আন্দাজ করতে পারে খোকা তাতে তার মনে হয় এটা একটা ভূমিকা মাত্র। নীলাভাবীর চোখমুখ চলকে উঠছে, একটা কিছু প্রবলভাবে তোলপাড় ক’রে চলেছে ভিতরে ভিতরে; অসংখ্য পলকাটা একটা নীলকান্ত মণির মতোই রহস্য- ময় দ্যুতি ঠিকরে পড়ছে অন্তস্তল থেকে।

‘খোকা, তুমি জানো বা না জানো, আজ মুখ ফুটে একটা কথা তোমার কাছে অকপটে স্বীকার করবো, সত্যিই আমি তোমাকে ভালবাসি একথায় বড় বড় চোখে তাকালো থোকা; তার ধারণা ছিলো একমাত্র বইপত্রেই এইসব কথা স্থান পায়, কিংবা যখন মুদ্রণপ্রমাদ ঘটে তখন ‘ব্লাউসের বোতাম খুলতে ভালবাসির’ স্থলে ওই কথা ছাপা হয়।

‘কবে থেকে জানো? মনে কারো না একেবারে সেই প্রথমদিন থেকে। প্রথম যেদিন তুমি তোমার রাজীব ভাইয়ের সাথে এ বাড়িতে এলে, তখন তো আমি তোমাকে দেখে প্রায় হেসেই ফেলেছিলাম। এককালে ওনার কোকেন খাওয়ার মতো বড়শিতে মাছ ধরারও বেজায় নেশা ছিলো। আমার মনে হ’লো নেশাটা আবার চাগান দিয়েছে, সঙ্গে তাই অমন একটা লিকলিকে ছিপ-‘ বাধা দিলে খোকা। বললে, ‘ছিপই-তো। ছিপ না হ’লে কি আর মাছ গাঁথে ?’