মোনাকোতে এক ধনকুবের ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে চালানো বোমা হামলার মামলায় নতুন নাটকীয় মোড় এসেছে। যে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা কয়েক দিন আগে হামলার প্রধান সন্দেহভাজন এক নারীর হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন, আদালতে হাজির হয়ে এবার তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার দাবি, তিনি গুলি চালাননি; বরং তার সঙ্গে থাকা আরেক অভিযুক্তই ওই নারীকে হত্যা করেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইউক্রেনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, মামলার দুই অভিযুক্তই দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পুরো ঘটনায় এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
আদালতে বদলে গেল আগের বক্তব্য
কিয়েভের আদালতে হাজির হয়ে অভিযুক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তিনি নিরপরাধ একজন নারীকে হত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহঅভিযুক্ত তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আগের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছিলেন।

তিনি দাবি করেন, সন্দেহভাজন নারীকে গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে তারা গাড়িতে তুলেছিলেন। পরে একটি বনাঞ্চলে পৌঁছানোর পর সহঅভিযুক্ত তাকে গুলি করার নির্দেশ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে সহঅভিযুক্ত নিজেই একাধিক গুলি চালিয়ে ওই নারীকে হত্যা করেন।
তার আরও অভিযোগ, পরে দুজনে মিলে মরদেহ মাটিচাপা দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও নিহতের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কাছের একটি জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
সহঅভিযুক্তের পক্ষের পাল্টা দাবি
অন্য অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে এই নতুন বক্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, তার মক্কেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন এবং একজন সাধারণ ব্যক্তি কোনো সক্রিয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে এমন অপরাধ করতে বাধ্য করতে পারেন—এমন ধারণা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত নিজের দায় এড়ানোর জন্য এখন নতুন গল্প দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।
তদন্তে এখনো স্পষ্ট নয় উদ্দেশ্য
প্রসিকিউশনের দাবি, দুই অভিযুক্ত পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিহত নারী মোনাকোতে বিস্ফোরণের ঘটনার পর ইউক্রেনে ফিরে আসেন। পরে তার যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দুই অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র পাওয়া যায়। তদন্তে নগদ অর্থ ও ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেনের তথ্যও সামনে এসেছে।
বোমা হামলার রহস্য এখনো অমীমাংসিত
মোনাকোতে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার লক্ষ্য ছিলেন এক ধনী ব্যবসায়ী, যিনি বহু বছর আগে ইউক্রেনের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন। পরে ইউক্রেন তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে তাকে হত্যার চেষ্টা কেন করা হয়েছিল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তদন্ত চলবে, জামিন মেলেনি
আদালত দুই অভিযুক্তের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারেই থাকতে হবে। একই সঙ্গে মামলার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, কার নির্দেশে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
মোনাকোতে বোমা হামলা এবং তার পরপরই প্রধান সন্দেহভাজনের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড—দুই ঘটনাই এখন ইউক্রেনের অন্যতম আলোচিত তদন্তে পরিণত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















