ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সম্পর্ক নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এনেছে কংগ্রেস। দলটির দাবি, ভারতের দুগ্ধ খাতের উন্নয়ন থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠায় নিউজিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। পাশাপাশি আশির দশকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রেও তৎকালীন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যাঙ্গের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতিচারণ
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ড সফর দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অতীতকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডেভিড ল্যাঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে রাজীব গান্ধীর সঙ্গেও আন্তরিক ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়।
দুগ্ধ খাত ও চিকিৎসা শিক্ষায় সহযোগিতা
জয়রাম রমেশের দাবি, পঞ্চাশের দশকে ভারতের দুগ্ধ শিল্পের বিকাশে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে নয়াদিল্লিতে সর্বভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও দেশটির অবদান উল্লেখযোগ্য ছিল।
তিনি আরও জানান, ভারতের শ্বেত বিপ্লবের অন্যতম রূপকার ভার্গিস কুরিয়েন সরকারি ফেলোশিপে নিউজিল্যান্ড সফর করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে ভারতের দুগ্ধ খাতের আধুনিকায়নে বড় ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আশির দশকে সম্পর্কের নতুন গতি
কংগ্রেসের মতে, ষাট ও সত্তরের দশকে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়লেও ডেভিড ল্যাঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর তা আবার নতুন গতি পায়। তাঁর উদ্যোগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়তে শুরু করে।
জয়রাম রমেশ স্মরণ করিয়ে দেন, ডেভিড ল্যাঙ্গে পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারিকে ভারতে নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের নামে সড়ক থাকার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন লক্ষ্য
এদিকে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর একটি রূপরেখায় সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের নতুন এই অধ্যায়ের পাশাপাশি অতীতের সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে, যা ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারত-নিউজিল্যান্ড কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন ঘোষণার পাশাপাশি কংগ্রেস দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, দুগ্ধ খাত ও চিকিৎসা শিক্ষায় নিউজিল্যান্ডের অবদানের কথা স্মরণ করিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















