০৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত, নিহত আরও ৭; মোট নিহত ৭১ সন্ত্রাসী ভারতে সেন্সর কাট, যুক্তরাজ্যে আনকাট মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের ‘জন নায়াগন’ বন্যায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৩.২ কেজি চাল ও ২৮ টাকা বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃত বেড়ে ৫১, সাত জেলায় খুলেছে ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্র রাজধানীর বাজারে হাঁটুসমান পানি, দোকান ডুবে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর আগে ইরানের হুমকি নিয়ে তার দৃঢ় মন্তব্য বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ৫ দিন পর আবার চালু ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার নিহত, ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভে বাসে আগুন মেসির বিপক্ষে ইংল্যান্ড: দুই দশকের অপেক্ষার অবসানে ইতিহাসের এক অসমাপ্ত অধ্যায় নীলফামারীতে বিয়েবাড়িতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ৪ জন নিহত

কঙ্গোতে ইবোলা চিকিৎসায় নতুন আশার আলো, শুরু হলো যুগান্তকারী ওষুধ পরীক্ষা

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নতুন আশার খবর এসেছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের চিকিৎসায় এখনো অনুমোদিত কোনো ওষুধ নেই। তবে দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে নতুন চিকিৎসা পরীক্ষার কার্যক্রম, যা কয়েক মাসের মধ্যেই ইবোলা মোকাবিলায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ছয় সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হলো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

ইবোলাকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে এই চিকিৎসা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গবেষকদের মতে, এত দ্রুত কোনো সংক্রামক রোগের চিকিৎসা পরীক্ষা চালু করা বিরল ঘটনা।

ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায় আক্রান্ত মানুষের মধ্যে দ্রুত কার্যকর চিকিৎসার প্রত্যাশা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট তাদের জীবন ও জীবিকাকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।

বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই পর্যন্ত কঙ্গোতে বান্দিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসে ১ হাজার ৭৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসের জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর্যায়ে রয়েছে। আক্রান্তদের শনাক্ত করা, আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করাই এখন পর্যন্ত প্রধান ব্যবস্থা।

মাঠপর্যায়ে কর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ

ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, পরিবহন সংকট এবং স্থানীয় মানুষের অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত কর্মীরাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বেতন না পাওয়ার অভিযোগে কিছু কর্মী কাজ বন্ধ রাখার প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

Residents in eastern Congo cling to hope as a new Ebola treatment trial  begins :: WRAL.com

দুটি ওষুধ নিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষা

নতুন চিকিৎসা পরীক্ষায় দুটি সম্ভাবনাময় ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধ রেমডেসিভির এবং অন্যটি এমবিপি১৩৪ নামের বিশেষ অ্যান্টিবডি চিকিৎসা।

পরীক্ষায় রোগীদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে এসব ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। কিছু রোগী ওষুধ পাবেন, আরেকটি দল প্রচলিত সহায়ক চিকিৎসা গ্রহণ করবে। গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, এসব চিকিৎসা ইবোলায় মৃত্যুর হার কমাতে পারে কি না তা নিশ্চিত করা।

প্রাণ বাঁচানোর নতুন সম্ভাবনা

গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় এই দুটি ওষুধ বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ফল দেখিয়েছে। এখন মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করাই মূল উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞানীদের আশা, পরীক্ষায় সফল ফল পাওয়া গেলে ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। পরীক্ষায় ৭০০ থেকে ১ হাজার রোগী যুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

দ্রুত গবেষণার পেছনে কঙ্গোর প্রস্তুতি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কঙ্গো এবার দ্রুত গবেষণা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আগে বিভিন্ন রোগ নিয়ে বড় আকারের পরীক্ষা পরিচালনা করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এই পরীক্ষায় পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সফল প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় এসব ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ অব্যাহত, নিহত আরও ৭; মোট নিহত ৭১ সন্ত্রাসী

কঙ্গোতে ইবোলা চিকিৎসায় নতুন আশার আলো, শুরু হলো যুগান্তকারী ওষুধ পরীক্ষা

০৮:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নতুন আশার খবর এসেছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের চিকিৎসায় এখনো অনুমোদিত কোনো ওষুধ নেই। তবে দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে নতুন চিকিৎসা পরীক্ষার কার্যক্রম, যা কয়েক মাসের মধ্যেই ইবোলা মোকাবিলায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ছয় সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হলো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

ইবোলাকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে এই চিকিৎসা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গবেষকদের মতে, এত দ্রুত কোনো সংক্রামক রোগের চিকিৎসা পরীক্ষা চালু করা বিরল ঘটনা।

ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায় আক্রান্ত মানুষের মধ্যে দ্রুত কার্যকর চিকিৎসার প্রত্যাশা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট তাদের জীবন ও জীবিকাকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।

বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই পর্যন্ত কঙ্গোতে বান্দিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসে ১ হাজার ৭৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসের জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর্যায়ে রয়েছে। আক্রান্তদের শনাক্ত করা, আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করাই এখন পর্যন্ত প্রধান ব্যবস্থা।

মাঠপর্যায়ে কর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ

ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, পরিবহন সংকট এবং স্থানীয় মানুষের অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত কর্মীরাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বেতন না পাওয়ার অভিযোগে কিছু কর্মী কাজ বন্ধ রাখার প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

Residents in eastern Congo cling to hope as a new Ebola treatment trial  begins :: WRAL.com

দুটি ওষুধ নিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষা

নতুন চিকিৎসা পরীক্ষায় দুটি সম্ভাবনাময় ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধ রেমডেসিভির এবং অন্যটি এমবিপি১৩৪ নামের বিশেষ অ্যান্টিবডি চিকিৎসা।

পরীক্ষায় রোগীদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে এসব ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। কিছু রোগী ওষুধ পাবেন, আরেকটি দল প্রচলিত সহায়ক চিকিৎসা গ্রহণ করবে। গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, এসব চিকিৎসা ইবোলায় মৃত্যুর হার কমাতে পারে কি না তা নিশ্চিত করা।

প্রাণ বাঁচানোর নতুন সম্ভাবনা

গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় এই দুটি ওষুধ বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ফল দেখিয়েছে। এখন মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করাই মূল উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞানীদের আশা, পরীক্ষায় সফল ফল পাওয়া গেলে ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। পরীক্ষায় ৭০০ থেকে ১ হাজার রোগী যুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

দ্রুত গবেষণার পেছনে কঙ্গোর প্রস্তুতি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কঙ্গো এবার দ্রুত গবেষণা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আগে বিভিন্ন রোগ নিয়ে বড় আকারের পরীক্ষা পরিচালনা করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এই পরীক্ষায় পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সফল প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় এসব ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।