০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ: ট্রাম্পের নীতিতে ভুলের পর ভুল বাংলাদেশে কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, স্থগিতাদেশ সেপ্টেম্বরের পরও বহাল প্রিমিয়াম ক্রীড়াপোশাকের বাজারে নতুন অস্ট্রেলীয় ব্র্যান্ডের চ্যালেঞ্জ পিরোজপুরে ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি, এক দিনে ৩৬ ভর্তি ও নারীর মৃত্যু সুন্দরবনে ৩ মাস পর পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশ, জীববৈচিত্র্যে মিলেছে স্বস্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল দেড় শতকের পথে দানাং বন্দর, ১২৫ বছরে স্মার্ট সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তর ইনফ্লুয়েন্সার বাছাইয়ে বদলে যাচ্ছে ব্র্যান্ডের কৌশল মুখের যত্নেও বিলাসী সৌন্দর্যের যুগ, ডাইসনের প্রথম টুথব্রাশে নতুন ইঙ্গিত মায়ের পেনশন পেতে ঘুষের দাবি, প্রতিবাদে কিশোরের ‘ঘুষ’ ওয়েবসাইট—৯ দিনে অভিযোগ প্রায় ১০ হাজার

লন্ডনের বাগানে বার্লিন প্রাচীর, সরাতে হতে পারে ঐতিহাসিক স্থাপনা

দক্ষিণ লন্ডনের এক বাড়ির বাগানে রাখা বার্লিন প্রাচীরের একটি অংশ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বাড়ির বাগানে ইতিহাসের টুকরো, তবু আপত্তি প্রতিবেশীদের

লন্ডনের হার্ন হিল এলাকার বাসিন্দা স্টিভেন থর্প জার্মানি থেকে বার্লিন প্রাচীরের একটি বড় অংশ কিনে এনে নিজের বাগানে স্থাপন করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষণ করা।

প্রায় ১২ ফুট উঁচু এই প্রাচীরের অংশটি তিনি বাগানে এমনভাবে বসান, যাতে এর প্রভাব কম পড়ে। চারপাশে গাছপালা লাগিয়ে এটিকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন তিনি।

তবে প্রতিবেশীদের অভিযোগের পর সাউথওয়ার্ক কাউন্সিল বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এই স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে এবং এটি স্থানীয় পরিকল্পনা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঐতিহাসিক নিদর্শন নাকি অনুমতিবিহীন নির্মাণ

স্টিভেন থর্পের দাবি, এটি কোনো নির্মাণকাজ নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম। তিনি মনে করেন, নিজের বাগানে ইতিহাসের এমন একটি অংশ রাখা মানুষের জন্য শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, অনেক প্রতিবেশী এই প্রাচীর দেখতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কেউ কেউ সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে এটি দেখতে এসেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

Berlin Wall at London home breaches planning rules, council says - BBC News

থর্পের পরিকল্পনা ছিল বছরের শেষ দিকে নিজের বাগান সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা, যাতে মানুষ বার্লিন প্রাচীরের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

সাউথওয়ার্ক কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা অভিযোগটি পর্যালোচনা করছে এবং দেশের প্রচলিত পরিকল্পনা প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

থর্প আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এবং তিনি প্রাচীরের অংশটি বাগানেই রাখতে পারবেন।

ইতিহাসের স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা

স্টিভেন থর্প জানান, আশির দশকে বার্লিনে নিয়মিত যাতায়াতের সময় তিনি শীতল যুদ্ধের বাস্তবতা কাছ থেকে অনুভব করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর শহরের পরিবর্তন তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।

তার মতে, এই প্রাচীর শুধু কংক্রিটের একটি অংশ নয়, এটি বিভাজন, পরিবর্তন এবং মানুষের এক হওয়ার ইতিহাসের প্রতীক।

লন্ডনের বাগানে রাখা বার্লিন প্রাচীরের অংশ নিয়ে চলছে অনুমতি বিতর্ক, ঐতিহাসিক নিদর্শনটি থাকবে নাকি সরাতে হবে তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ: ট্রাম্পের নীতিতে ভুলের পর ভুল

লন্ডনের বাগানে বার্লিন প্রাচীর, সরাতে হতে পারে ঐতিহাসিক স্থাপনা

০৮:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ লন্ডনের এক বাড়ির বাগানে রাখা বার্লিন প্রাচীরের একটি অংশ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বাড়ির বাগানে ইতিহাসের টুকরো, তবু আপত্তি প্রতিবেশীদের

লন্ডনের হার্ন হিল এলাকার বাসিন্দা স্টিভেন থর্প জার্মানি থেকে বার্লিন প্রাচীরের একটি বড় অংশ কিনে এনে নিজের বাগানে স্থাপন করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষণ করা।

প্রায় ১২ ফুট উঁচু এই প্রাচীরের অংশটি তিনি বাগানে এমনভাবে বসান, যাতে এর প্রভাব কম পড়ে। চারপাশে গাছপালা লাগিয়ে এটিকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন তিনি।

তবে প্রতিবেশীদের অভিযোগের পর সাউথওয়ার্ক কাউন্সিল বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এই স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে এবং এটি স্থানীয় পরিকল্পনা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঐতিহাসিক নিদর্শন নাকি অনুমতিবিহীন নির্মাণ

স্টিভেন থর্পের দাবি, এটি কোনো নির্মাণকাজ নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম। তিনি মনে করেন, নিজের বাগানে ইতিহাসের এমন একটি অংশ রাখা মানুষের জন্য শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, অনেক প্রতিবেশী এই প্রাচীর দেখতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কেউ কেউ সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে এটি দেখতে এসেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

Berlin Wall at London home breaches planning rules, council says - BBC News

থর্পের পরিকল্পনা ছিল বছরের শেষ দিকে নিজের বাগান সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা, যাতে মানুষ বার্লিন প্রাচীরের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

সাউথওয়ার্ক কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা অভিযোগটি পর্যালোচনা করছে এবং দেশের প্রচলিত পরিকল্পনা প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

থর্প আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এবং তিনি প্রাচীরের অংশটি বাগানেই রাখতে পারবেন।

ইতিহাসের স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা

স্টিভেন থর্প জানান, আশির দশকে বার্লিনে নিয়মিত যাতায়াতের সময় তিনি শীতল যুদ্ধের বাস্তবতা কাছ থেকে অনুভব করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর শহরের পরিবর্তন তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।

তার মতে, এই প্রাচীর শুধু কংক্রিটের একটি অংশ নয়, এটি বিভাজন, পরিবর্তন এবং মানুষের এক হওয়ার ইতিহাসের প্রতীক।

লন্ডনের বাগানে রাখা বার্লিন প্রাচীরের অংশ নিয়ে চলছে অনুমতি বিতর্ক, ঐতিহাসিক নিদর্শনটি থাকবে নাকি সরাতে হবে তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ।