১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
মেটার ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তথ্যকেন্দ্র প্রকল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন বিনিয়োগের রেকর্ড শেইনের হংকং শেয়ার বাজারে প্রবেশের পথ খুলল, মূল্যায়ন হতে পারে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি গোল্ডম্যান স্যাকসের শীর্ষ আইনজীবীকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ, পদ ছাড়ার পরও কাটছে না বিতর্ক স্বর্ণের পতনে নড়ে উঠল নিরাপদ আশ্রয়ের বিশ্বাস, জ্বালানি খরচে কমছে দামের ঝলক সিরেন হেড থেকে হলিউডের নতুন আতঙ্কের ব্যবসা, অনলাইন ভয়ের গল্পে কোটি টাকার সম্ভাবনা ভক্সওয়াগেনের নতুন সংকট ৫০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে জার্মান কারখানা ভিএআর ছাড়াই ফুটবল! সুইডেনে প্রযুক্তিবিহীন খেলা নিয়ে সমর্থকদের ঐতিহাসিক জয় রোলিং স্টোনসের নতুন গান নিয়ে বিতর্ক, আমেরিকাকে ভালোবাসা হারানোর বার্তা দিলেন মিক জ্যাগার আন্তর্জাতিক আদালত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন বার্তা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার নতুন সেতু নিয়ে টোল বিতর্ক, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ, জমি পানি বিদ্যুৎ সংকটে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত বাড়তে থাকা বড় বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে কৃষক ও গবাদিপশু খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জমি, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে কৃষি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এসব তথ্যকেন্দ্র তৈরির জন্য কৃষিজমি কমে যেতে পারে এবং স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকায় পানির ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত খামারিরা।

কৃষিজমিতে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ

মন্টানার এক গবাদিপশু খামারি ক্লিন্ট ম্যাকরে মনে করছেন, তার এলাকার কয়েক হাজার একর চারণভূমি ভবিষ্যতে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের কাজে ব্যবহার হতে পারে। তার প্রধান উদ্বেগ পানি নিয়ে। কারণ পশ্চিমাঞ্চলের খামারগুলোতে খরার কারণে এরই মধ্যে পশুর সংখ্যা কমাতে হয়েছে।

A New Foe Has Emerged for Data Centers: Farmers - WSJ

ম্যাকরের মতে, নতুন প্রকল্পের জন্য পানির চাহিদা বাড়লে কৃষকদের চারণভূমি ও পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হতে পারে। তিনি স্থানীয় সভায় অন্য খামারিদেরও বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থা জানিয়েছে, জমি কেনার বিষয়টি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রযুক্তি বিস্তার বনাম কৃষির স্বার্থ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব স্থাপনার জন্য বড় আকারের সমতল জমি, বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়, যা কৃষকদের ব্যবহৃত সম্পদের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

কৃষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু তথ্যকেন্দ্র মাঝারি আকারের একটি শহরের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। এতে বিদ্যুতের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যখন কৃষকরাও বাড়তি উৎপাদন ব্যয় নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছেন।

ইলিনয়ের কৃষক সংগঠনের নেতারা বলছেন, অনেক উর্বর জমি যদি তথ্যকেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের সুযোগ কমে যেতে পারে।

A New Foe Has Emerged for Data Centers: Farmers - WSJ

প্রযুক্তি খাতের পাল্টা যুক্তি

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তথ্যকেন্দ্রগুলো সম্পদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তাদের দাবি, অনেক স্থাপনায় বছরের বেশির ভাগ সময় বাতাসভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় এবং প্রয়োজন হলে সীমিত সময়ে পানিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হয়।

প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা আরও বলছেন, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, জমি কেনাবেচা সাধারণত মালিক ও ক্রেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।

কৃষিতেও বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার

তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কৃষি খাত নিজেও প্রযুক্তির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। পশুপালন, ফসল ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে।

কানসাসের এক খামারি জানিয়েছেন, চারণভূমি হারানোর বিষয়টি উদ্বেগের হলেও কৃষিকাজ আরও দক্ষ করতে প্রযুক্তি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃষি ও প্রযুক্তির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করাও জরুরি।

A New Foe Has Emerged for Data Centers: Farmers - WSJ

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটার ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তথ্যকেন্দ্র প্রকল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন বিনিয়োগের রেকর্ড

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ, জমি পানি বিদ্যুৎ সংকটে নতুন বিতর্ক

১১:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত বাড়তে থাকা বড় বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে কৃষক ও গবাদিপশু খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জমি, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে কৃষি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এসব তথ্যকেন্দ্র তৈরির জন্য কৃষিজমি কমে যেতে পারে এবং স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকায় পানির ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত খামারিরা।

কৃষিজমিতে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ

মন্টানার এক গবাদিপশু খামারি ক্লিন্ট ম্যাকরে মনে করছেন, তার এলাকার কয়েক হাজার একর চারণভূমি ভবিষ্যতে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের কাজে ব্যবহার হতে পারে। তার প্রধান উদ্বেগ পানি নিয়ে। কারণ পশ্চিমাঞ্চলের খামারগুলোতে খরার কারণে এরই মধ্যে পশুর সংখ্যা কমাতে হয়েছে।

A New Foe Has Emerged for Data Centers: Farmers - WSJ

ম্যাকরের মতে, নতুন প্রকল্পের জন্য পানির চাহিদা বাড়লে কৃষকদের চারণভূমি ও পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হতে পারে। তিনি স্থানীয় সভায় অন্য খামারিদেরও বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থা জানিয়েছে, জমি কেনার বিষয়টি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রযুক্তি বিস্তার বনাম কৃষির স্বার্থ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব স্থাপনার জন্য বড় আকারের সমতল জমি, বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়, যা কৃষকদের ব্যবহৃত সম্পদের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

কৃষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু তথ্যকেন্দ্র মাঝারি আকারের একটি শহরের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। এতে বিদ্যুতের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যখন কৃষকরাও বাড়তি উৎপাদন ব্যয় নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছেন।

ইলিনয়ের কৃষক সংগঠনের নেতারা বলছেন, অনেক উর্বর জমি যদি তথ্যকেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের সুযোগ কমে যেতে পারে।

A New Foe Has Emerged for Data Centers: Farmers - WSJ

প্রযুক্তি খাতের পাল্টা যুক্তি

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তথ্যকেন্দ্রগুলো সম্পদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তাদের দাবি, অনেক স্থাপনায় বছরের বেশির ভাগ সময় বাতাসভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় এবং প্রয়োজন হলে সীমিত সময়ে পানিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হয়।

প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা আরও বলছেন, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, জমি কেনাবেচা সাধারণত মালিক ও ক্রেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।

কৃষিতেও বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার

তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কৃষি খাত নিজেও প্রযুক্তির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। পশুপালন, ফসল ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে।

কানসাসের এক খামারি জানিয়েছেন, চারণভূমি হারানোর বিষয়টি উদ্বেগের হলেও কৃষিকাজ আরও দক্ষ করতে প্রযুক্তি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃষি ও প্রযুক্তির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করাও জরুরি।

A New Foe Has Emerged for Data Centers: Farmers - WSJ