যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অ্যান উইডিকম্বের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এখন সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারাও খতিয়ে দেখছেন। ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিককে গত সপ্তাহে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের নিজ বাড়িতে গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়।
মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তদন্ত
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে মনে হয়নি। তবে নতুন তথ্য পাওয়ার পর সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি বা সম্পৃক্ততার অভিযোগে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে হত্যার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে বসবাস করতেন। পুলিশ এখন তার সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খুঁজে দেখছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন উইডিকম্ব
অ্যান উইডিকম্ব দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৮৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কনজারভেটিভ দলের এমপি ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র ও কর্মসংস্থান বিষয়ক দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ ছাড়ার পর তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রচারণার কারণে আলোচনায় আসেন। পরে তিনি অভিবাসন ও বিচার বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে রিফর্ম ইউকে দলে যুক্ত হন।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
উইডিকম্বের মৃত্যু যুক্তরাজ্যে রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। দেশটিতে গত এক দশকে আরও দুই আইনপ্রণেতা হত্যার শিকার হয়েছেন।
২০১৬ সালে এমপি জো কক্সকে হত্যা করা হয় এবং ২০২১ সালে কনজারভেটিভ এমপি ডেভিড অ্যামেস ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এসব ঘটনার পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সংসদে জানিয়েছেন, আইনপ্রণেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় এবং সাবেক এমপিদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হবে।
গত বুধবার দুপুরে টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর অ্যান উইডিকম্ব নিজ বাড়িতে নিহত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















