১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
মেটার ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তথ্যকেন্দ্র প্রকল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন বিনিয়োগের রেকর্ড শেইনের হংকং শেয়ার বাজারে প্রবেশের পথ খুলল, মূল্যায়ন হতে পারে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি গোল্ডম্যান স্যাকসের শীর্ষ আইনজীবীকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ, পদ ছাড়ার পরও কাটছে না বিতর্ক স্বর্ণের পতনে নড়ে উঠল নিরাপদ আশ্রয়ের বিশ্বাস, জ্বালানি খরচে কমছে দামের ঝলক সিরেন হেড থেকে হলিউডের নতুন আতঙ্কের ব্যবসা, অনলাইন ভয়ের গল্পে কোটি টাকার সম্ভাবনা ভক্সওয়াগেনের নতুন সংকট ৫০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে জার্মান কারখানা ভিএআর ছাড়াই ফুটবল! সুইডেনে প্রযুক্তিবিহীন খেলা নিয়ে সমর্থকদের ঐতিহাসিক জয় রোলিং স্টোনসের নতুন গান নিয়ে বিতর্ক, আমেরিকাকে ভালোবাসা হারানোর বার্তা দিলেন মিক জ্যাগার আন্তর্জাতিক আদালত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন বার্তা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার নতুন সেতু নিয়ে টোল বিতর্ক, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

ইরানে জাতীয়তাবাদের ঢেউ, কূটনীতির পথ কঠিন করে তুলছে

ইরানে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রবল জাতীয়তাবাদী আবেগ দেশটির কূটনীতিকদের জন্য সমঝোতার পথ কঠিন করে তুলছে। যুদ্ধ থামানো, নিষেধাজ্ঞা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টায় এখন অভ্যন্তরীণ চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবেগের চাপে আলোচনার পথ সংকুচিত

ইরানের সরকার যুদ্ধের কঠিন সময়ে জনসমর্থন ধরে রাখতে দেশপ্রেমের আবেগকে জোরালোভাবে তুলে ধরে। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর সেই আবেগ আরও তীব্র হয়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমের একটি অংশ এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো।

তাদের চাপের কারণে আলোচনায় থাকা ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য আপসের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কূটনীতিকরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, তারা সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী হলেও দেশের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ তাদের স্বাধীনভাবে এগোতে দিচ্ছে না।

আইরজিসি ধ্বংস | ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদর দপ্তর ধ্বংসের দাবি করল  ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র The Daily Star

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে বিরোধ

যুদ্ধ কমানোর প্রাথমিক সমঝোতার অন্যতম বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতার কারণে সেই উদ্যোগ বারবার বাধার মুখে পড়ছে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী দাবি করছে, এই জলপথের ওপর দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। এর ফলে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাও জটিল হয়ে উঠেছে।

শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে বাড়ছে চাপ

কিছু রাজনৈতিক নেতা মনে করছেন, শক্ত অবস্থান ধরে রাখাই দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যদিকে কিছু কূটনীতিক মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটাতে আলোচনার সুযোগ ধরে রাখা জরুরি।

A Wave of Iranian Nationalism Is Drowning Out Its Diplomats - WSJ

সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্য ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রতিশোধের দাবি জোরালো হয়েছে। কয়েকটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেওয়া হয়। একই সময়ে আলোচনার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সমঝোতা নাকি সংঘাত, সামনে বড় প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ এখন আলোচনার চেয়ে কঠোর অবস্থানকে বেশি উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে কূটনীতিকরা যেমন চাপে রয়েছেন, তেমনি যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতার পথও আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রভাব এবং আলোচনাকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার ওপর।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটার ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তথ্যকেন্দ্র প্রকল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন বিনিয়োগের রেকর্ড

ইরানে জাতীয়তাবাদের ঢেউ, কূটনীতির পথ কঠিন করে তুলছে

১১:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ইরানে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রবল জাতীয়তাবাদী আবেগ দেশটির কূটনীতিকদের জন্য সমঝোতার পথ কঠিন করে তুলছে। যুদ্ধ থামানো, নিষেধাজ্ঞা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টায় এখন অভ্যন্তরীণ চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবেগের চাপে আলোচনার পথ সংকুচিত

ইরানের সরকার যুদ্ধের কঠিন সময়ে জনসমর্থন ধরে রাখতে দেশপ্রেমের আবেগকে জোরালোভাবে তুলে ধরে। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর সেই আবেগ আরও তীব্র হয়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমের একটি অংশ এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো।

তাদের চাপের কারণে আলোচনায় থাকা ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য আপসের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কূটনীতিকরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, তারা সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী হলেও দেশের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ তাদের স্বাধীনভাবে এগোতে দিচ্ছে না।

আইরজিসি ধ্বংস | ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদর দপ্তর ধ্বংসের দাবি করল  ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র The Daily Star

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে বিরোধ

যুদ্ধ কমানোর প্রাথমিক সমঝোতার অন্যতম বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতার কারণে সেই উদ্যোগ বারবার বাধার মুখে পড়ছে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী দাবি করছে, এই জলপথের ওপর দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। এর ফলে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাও জটিল হয়ে উঠেছে।

শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে বাড়ছে চাপ

কিছু রাজনৈতিক নেতা মনে করছেন, শক্ত অবস্থান ধরে রাখাই দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যদিকে কিছু কূটনীতিক মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটাতে আলোচনার সুযোগ ধরে রাখা জরুরি।

A Wave of Iranian Nationalism Is Drowning Out Its Diplomats - WSJ

সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্য ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রতিশোধের দাবি জোরালো হয়েছে। কয়েকটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেওয়া হয়। একই সময়ে আলোচনার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সমঝোতা নাকি সংঘাত, সামনে বড় প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ এখন আলোচনার চেয়ে কঠোর অবস্থানকে বেশি উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে কূটনীতিকরা যেমন চাপে রয়েছেন, তেমনি যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতার পথও আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রভাব এবং আলোচনাকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার ওপর।