ইরানে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রবল জাতীয়তাবাদী আবেগ দেশটির কূটনীতিকদের জন্য সমঝোতার পথ কঠিন করে তুলছে। যুদ্ধ থামানো, নিষেধাজ্ঞা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টায় এখন অভ্যন্তরীণ চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবেগের চাপে আলোচনার পথ সংকুচিত
ইরানের সরকার যুদ্ধের কঠিন সময়ে জনসমর্থন ধরে রাখতে দেশপ্রেমের আবেগকে জোরালোভাবে তুলে ধরে। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর সেই আবেগ আরও তীব্র হয়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমের একটি অংশ এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো।
তাদের চাপের কারণে আলোচনায় থাকা ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য আপসের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কূটনীতিকরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, তারা সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী হলেও দেশের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ তাদের স্বাধীনভাবে এগোতে দিচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে বিরোধ
যুদ্ধ কমানোর প্রাথমিক সমঝোতার অন্যতম বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতার কারণে সেই উদ্যোগ বারবার বাধার মুখে পড়ছে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী দাবি করছে, এই জলপথের ওপর দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। এর ফলে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাও জটিল হয়ে উঠেছে।
শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে বাড়ছে চাপ
কিছু রাজনৈতিক নেতা মনে করছেন, শক্ত অবস্থান ধরে রাখাই দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যদিকে কিছু কূটনীতিক মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটাতে আলোচনার সুযোগ ধরে রাখা জরুরি।
সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্য ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রতিশোধের দাবি জোরালো হয়েছে। কয়েকটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেওয়া হয়। একই সময়ে আলোচনার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সমঝোতা নাকি সংঘাত, সামনে বড় প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ এখন আলোচনার চেয়ে কঠোর অবস্থানকে বেশি উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে কূটনীতিকরা যেমন চাপে রয়েছেন, তেমনি যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতার পথও আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রভাব এবং আলোচনাকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















