সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলার ঘটনায় কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও নতুন সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বিমানবন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ
সৌদি আরবের দাবি, ইয়েমেনের হুথি বাহিনী দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা শহরের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের অভিযোগ, তাদের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী একটি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
হুথিদের প্রধান আলোচক ও মুখপাত্রের দাবি, বিমানবন্দরে একাধিক হামলা চলমান যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী। তবে সানায় হামলার দায় সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা

২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছরের সংঘাত অনেকটাই শান্ত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন ঝুঁকি
এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল হয়। এ পথ অস্থিতিশীল হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, সানার বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলাটি তাদের বাহিনী চালিয়েছে, সৌদি আরব নয়। সরকারের দাবি, একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানে হুথি প্রতিনিধিদল ফিরছিল। তাদের আশঙ্কা, এমন ফ্লাইটের মাধ্যমে অস্ত্র ও সামরিক সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হতে পারে। ঘটনার পর হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান চলাচল নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
সাম্প্রতিক ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















