ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ। রোববার রাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর সোমবার ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
জানালাবিহীন শৌচাগারে মিলল অধিকাংশ মরদেহ
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগের মরদেহ বারের পেছনের একটি নির্গমনপথের কাছাকাছি অবস্থিত জানালাবিহীন শৌচাগারে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে আশ্রয় নিতে গিয়েই তারা আটকা পড়েন।
নির্গমনপথ ব্যবহার না হওয়ায় বাড়ে বিপদ

দেশটির পুলিশপ্রধান জানান, পেছনের নির্গমনপথটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। একটি করিডোরে অস্থায়ীভাবে বসানো টেবিল পথ আটকে রেখেছিল অথবা ঘন ধোঁয়া ও অন্ধকারের কারণে অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। ফলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অধিকাংশের মৃত্যু
ব্যাংককের গভর্নর বলেন, অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু আগুনে পুড়ে নয়, বরং ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার কারণে হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২৫ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া তিন ডজনের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনরা ফরেনসিক প্রতিষ্ঠানে ভিড় করছেন।
১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরের মধ্যে ব্যাংককে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে।
সোমবার সকালেই পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। আগুনে বারের জানালাগুলো ভেঙে যায় এবং বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে পোড়া টেলিভিশন, শব্দযন্ত্র, বৈদ্যুতিক গিটারসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ। তবে কীভাবে এত বড় প্রাণহানি ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংককের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করছেন, আর দেশটির কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















