ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী হাসপাতাল চালু হয়েছে। সাদা তাঁবুর নিচে গড়ে ওঠা এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন। বহু বছর ধরে সংকটে থাকা দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা দুর্যোগের পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলেও আন্তর্জাতিক সহায়তায় পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার আলো
উপকূলীয় লা গুইরা এলাকায় একটি বেসবল মাঠে স্থাপন করা আধুনিক অস্থায়ী হাসপাতালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রকৌশলীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। প্রচার ছাড়াই আশপাশের মানুষ চিকিৎসার জন্য সেখানে ভিড় করছেন। আহতদের পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবঞ্চিত রোগীরাও সেবা পাচ্ছেন।
ভূমিকম্পে বড় মানবিক সংকট
গত ২৪ জুনের শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪ হাজার ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার মানুষ এবং এখনও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুর্যোগ দেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। হাসপাতালগুলোতে আগে থেকেই যন্ত্রপাতির সংকট, ওষুধের অভাব এবং পর্যাপ্ত অস্ত্রোপচার কক্ষ না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছিল।
আন্তর্জাতিক সহায়তায় বাড়ছে চিকিৎসাসেবা
দুর্যোগের পর বিভিন্ন দেশের সহায়তায় নতুন চিকিৎসাকেন্দ্র চালু হয়েছে। কোথাও অস্থায়ী হাসপাতাল, কোথাও শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসাসেবা, আবার কোথাও স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা বিকল্প স্থানে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। এর ফলে হাজারো মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলো এমন অনেক দায়িত্ব পালন করছে, যা সাধারণত রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা।
শরণার্থী শিবিরে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ
ভূমিকম্পের পর গড়ে ওঠা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত না হলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে এখনও ভোগান্তি
অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখনও অনেক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, আবার কোথাও ওষুধের সংকট দেখা দিচ্ছে। তবে বিদেশি সহায়তায় আসা চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছাতে শুরু করায় কিছু হাসপাতালে পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগী এখন বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা পাচ্ছেন, যা আগে তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না।
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী হাসপাতাল শুধু জরুরি চিকিৎসাই দিচ্ছে না, বরং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নতুন আশার প্রতীক হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















