দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে একের পর এক হামলায় রাশিয়ার বড় বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বড় শোধনাগারগুলোতে হামলার প্রভাব
চলতি বসন্ত থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে শীর্ষ ১০টি তেল শোধনাগারই কোনো না কোনো সময় আঘাতের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব হামলার ফলে দেশটির মোট তেল শোধন সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি সাময়িকভাবে অচল হয়ে গেছে। অনেক স্থানে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

দীর্ঘপাল্লার হামলায় নতুন সক্ষমতা
ইউক্রেনের তৈরি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র এখন আগের তুলনায় আরও দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। বড় আকারের বিস্ফোরক বহন করতে পারায় এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে। রাশিয়ার সীমান্ত থেকে অনেক দূরের এলাকাও এখন হামলার আওতায় চলে এসেছে।
রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষায় বাড়ছে চাপ
রাশিয়ার ভেতরে হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ড্রোনের একাধিক সমন্বিত হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ
হামলার প্রভাবে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। অনেক এলাকায় জ্বালানি বিতরণে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে যাতে সংকট আরও না বাড়ে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ
এদিকে ইউক্রেনসহ মোট ১০টি দেশ ইউরোপকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে একটি নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর লক্ষ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















