০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম ভারতে খ্রিস্টানদের উদ্বেগ, ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনে বাড়ছে হয়রানির আশঙ্কা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে ঝুঁকছেন মেধাবীরা, চাকরির ইন্টার্নশিপ ছেড়ে স্টার্টআপে নতুন স্বপ্ন

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। আগে যেখানে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করাই ছিল সফলতার অন্যতম ধাপ, এখন সেখানে অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি স্টার্টআপ গড়ে তোলার পথে হাঁটছেন। এমনকি কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনাও সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেমেছেন।

বদলে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের প্রচলিত ধারণা

প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী এখন নিজেদের উদ্যোগ শুরু করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই পরিবর্তনের সময়ে নতুন কিছু নির্মাণ করতে পারলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি জগতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণ সেমিস্টারের তুলনায় দ্রুতগতির স্টার্টআপ পরিবেশে মাত্র কয়েক সপ্তাহ কাজ করেই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অনেক বেশি অর্জন করা যায়।

হ্যাকার হাউসে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবন

Forget Wall Street. Elite Students Are Spending Their Summers on Startup  Dreams. - WSJ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আবাসন ও উদ্যোক্তা কর্মসূচি গড়ে উঠেছে। এসব স্থানে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসবাস করছেন, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং নিজেদের প্রযুক্তিপণ্য উন্নয়নে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এই উদ্যোগগুলোতে বিনা খরচে থাকার সুযোগ, অভিজ্ঞদের পরামর্শ এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা দ্রুত নিজেদের ব্যবসা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

পড়াশোনা নাকি স্টার্টআপ

অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পড়াশোনায় বিরতি নিয়ে পুরো সময় স্টার্টআপে দিচ্ছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, বিনিয়োগ গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। তাই একই সঙ্গে পড়াশোনা ও ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে সবাই একই মতের নন। অনেকের বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ ভিত্তিও তৈরি করে। তাই স্টার্টআপের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা শেষ করার পক্ষে মত দিচ্ছেন অনেকে।

Forget Wall Street. Elite Students Are Spending Their Summers on Startup  Dreams. - WSJ

কঠিন চাকরির বাজারে নতুন পথ

সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে চাকরির প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগের মতো নিশ্চয়তা নেই। এই বাস্তবতায় অনেক তরুণ অপেক্ষা না করে নিজেরাই নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

তাদের মতে, এখনই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার উপযুক্ত সময়। দ্রুত পরিবর্তিত এই খাতে আগে এগিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সহযোগিতার পরিবেশে বাড়ছে আত্মবিশ্বাস

একসঙ্গে কাজ করার এই সংস্কৃতি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সহায়ক হয়ে উঠছে। একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা শিক্ষার্থীরা পরস্পরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন, সমস্যার সমাধান খুঁজছেন এবং নতুন অংশীদার খুঁজে পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এই প্রবণতা আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে ঝুঁকছেন মেধাবীরা, চাকরির ইন্টার্নশিপ ছেড়ে স্টার্টআপে নতুন স্বপ্ন

১১:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। আগে যেখানে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করাই ছিল সফলতার অন্যতম ধাপ, এখন সেখানে অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি স্টার্টআপ গড়ে তোলার পথে হাঁটছেন। এমনকি কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনাও সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেমেছেন।

বদলে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের প্রচলিত ধারণা

প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী এখন নিজেদের উদ্যোগ শুরু করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই পরিবর্তনের সময়ে নতুন কিছু নির্মাণ করতে পারলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি জগতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণ সেমিস্টারের তুলনায় দ্রুতগতির স্টার্টআপ পরিবেশে মাত্র কয়েক সপ্তাহ কাজ করেই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অনেক বেশি অর্জন করা যায়।

হ্যাকার হাউসে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবন

Forget Wall Street. Elite Students Are Spending Their Summers on Startup  Dreams. - WSJ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আবাসন ও উদ্যোক্তা কর্মসূচি গড়ে উঠেছে। এসব স্থানে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসবাস করছেন, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং নিজেদের প্রযুক্তিপণ্য উন্নয়নে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এই উদ্যোগগুলোতে বিনা খরচে থাকার সুযোগ, অভিজ্ঞদের পরামর্শ এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা দ্রুত নিজেদের ব্যবসা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

পড়াশোনা নাকি স্টার্টআপ

অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পড়াশোনায় বিরতি নিয়ে পুরো সময় স্টার্টআপে দিচ্ছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, বিনিয়োগ গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। তাই একই সঙ্গে পড়াশোনা ও ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে সবাই একই মতের নন। অনেকের বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ ভিত্তিও তৈরি করে। তাই স্টার্টআপের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা শেষ করার পক্ষে মত দিচ্ছেন অনেকে।

Forget Wall Street. Elite Students Are Spending Their Summers on Startup  Dreams. - WSJ

কঠিন চাকরির বাজারে নতুন পথ

সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে চাকরির প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগের মতো নিশ্চয়তা নেই। এই বাস্তবতায় অনেক তরুণ অপেক্ষা না করে নিজেরাই নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

তাদের মতে, এখনই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার উপযুক্ত সময়। দ্রুত পরিবর্তিত এই খাতে আগে এগিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সহযোগিতার পরিবেশে বাড়ছে আত্মবিশ্বাস

একসঙ্গে কাজ করার এই সংস্কৃতি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সহায়ক হয়ে উঠছে। একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা শিক্ষার্থীরা পরস্পরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন, সমস্যার সমাধান খুঁজছেন এবং নতুন অংশীদার খুঁজে পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এই প্রবণতা আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।