যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইডে ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির বাজেট ঘাটতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের হিসাব বলছে, কর আদায় বেড়েছে, শুল্ক থেকেও সরকারের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সামগ্রিক ঘাটতি আরও বেড়েছে।
বাড়তি আয়ের পরও কমেনি ঘাটতি
সাম্প্রতিক বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাজেট ঘাটতি আরও বেড়েছে। ব্যক্তি আয়কর, বেতনভিত্তিক কর এবং আমদানি শুল্ক থেকে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই বাড়তি আয় ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি

শিক্ষা, পরিবেশ এবং বাণিজ্যসংক্রান্ত কয়েকটি সরকারি বিভাগের ব্যয় কমলেও সেই সাশ্রয়কে ছাপিয়ে গেছে সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, মেডিকেইড এবং সাবেক সেনাসদস্যদের সেবাখাতে অতিরিক্ত ব্যয়। পাশাপাশি বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে সুদ পরিশোধেও সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
মেডিকেইড কর্মসূচিতে কিছু সীমিত সংস্কার আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এ নিয়ে দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষের দাবি, বর্তমান কাঠামোতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছে। অন্য পক্ষের মতে, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা কমানোর পরিবর্তে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়তে থাকলে সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
মেডিকেইড ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজেট সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















