যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক মতামতধর্মী লেখায় দাবি করা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে বিপুল সরকারি ব্যয় হলেও তা দেশের সামগ্রিক কল্যাণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। একই সঙ্গে সরকারি দারিদ্র্য পরিমাপের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
দারিদ্র্য পরিমাপ নিয়ে আপত্তি
লেখাটিতে বলা হয়েছে, সরকারি দারিদ্র্য নির্ধারণে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ভর্তুকিকে আয়ের অংশ হিসেবে ধরা হয় না। ফলে সরকার দরিদ্র পরিবারকে যত সহায়তাই দিক না কেন, প্রচলিত পরিসংখ্যানে দারিদ্র্যের চিত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। এ কারণে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে।
বিকল্প হিসাব নিয়েও প্রশ্ন

মতামতে আরও বলা হয়েছে, যে বিকল্প দারিদ্র্য পরিমাপের ভিত্তিতে এই ধরনের দাবি করা হয়, সেখানে খাদ্য সহায়তাকে আয়ের অংশ হিসেবে গণনা করা হলেও অন্যান্য অনেক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি একইভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। পাশাপাশি কিছু ব্যয় বাদ দেওয়া এবং দারিদ্র্যের সীমা নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা
লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তা নতুন সম্পদ বা অতিরিক্ত জাতীয় কল্যাণ সৃষ্টি করে না। বরং এটি কেবল এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণির কাছে সম্পদ স্থানান্তরের কাজ করে। লেখকের মতে, একই অর্থ মূল উপার্জনকারীদের হাতে থাকলে তা ভোগ বা বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে ভিন্ন ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।

সুবিধাভোগীদের নিয়েও প্রশ্ন
মতামতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে অনিয়ম রোধে নেওয়া সীমিত পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও, কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুবিধাভোগী প্রচলিত দারিদ্র্য পরিমাপ অনুযায়ীও দরিদ্র নন। এ বিষয়েও নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির কার্যকারিতা, দারিদ্র্য পরিমাপের পদ্ধতি এবং সরকারি ব্যয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের বিষয়গুলোই এই মতামতে তুলে ধরা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















