চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশ ইউক্রেনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর নতুন সামরিক উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, কাগজে-কলমে গঠিত বিভিন্ন জোট বাস্তবে কোনো ফল দেয়নি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের এমন উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় বাবিশ বলেন, নবঘোষিত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল কোয়ালিশনে যোগ দিলে সেটিও সম্ভবত আরেকটি ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যার বাস্তব কোনো ফলাফল আসবে না।
উদ্যোগ নিয়ে সংশয়
বাবিশের ভাষায়, ‘কাগজে-কলমে কোনো জোটের সদস্য হওয়া, যেমন ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’, কোনো অর্জন এনে দেয়নি। এটি কখনও বাস্তব ফল দেয়নি, শুধু রাজনীতিবিদদের কথাবার্তাই হয়েছে। এমন জোটের অংশ হওয়ার আমার প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এ চেক প্রজাতন্ত্রের অংশগ্রহণের ফলাফল ছিল শূন্য।
‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ কী?
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সেখানে সেনা মোতায়েনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তবে মস্কো বারবার সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে মোতায়েন হওয়া যে কোনো ন্যাটো সেনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইউক্রেন নীতিতে পরিবর্তনের অঙ্গীকার
গত বছরের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ইশতেহার নিয়ে বাবিশের দল ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেত্র ফিয়ালার অনুসৃত ইউক্রেনকে সহায়তার নীতি থেকে সরে আসা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া।
মধ্য ইউরোপে বাড়ছে সমালোচনা
বাবিশের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্য ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
চলতি মাসের শুরুতে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেন, ইউক্রেনকে অব্যাহত সামরিক ও আর্থিক সহায়তার বিরোধিতা করায় ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এ সোফিয়ার কোনো স্থান নেই।
এদিকে স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ন্যাটোর সর্বশেষ ৭০ বিলিয়ন ইউরোর সামরিক সহায়তা প্যাকেজে অবদান রাখার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। একইভাবে হাঙ্গেরিও ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
রাশিয়ার অবস্থান
রাশিয়া ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-কে এমন একটি জোট হিসেবে বর্ণনা করেছে, যারা শান্তি নয়, বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায়। মস্কোর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ও আর্থিক সহায়তা সংঘাতের ফল পরিবর্তন করতে পারবে না; বরং যুদ্ধ দীর্ঘ করবে এবং রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
চেক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নতুন করে ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভিন্নমতের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
চেক প্রধানমন্ত্রীর মতে ইউক্রেনপন্থী সামরিক জোট বাস্তব ফল দেয়নি; নতুন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক উদ্যোগ নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















