জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার দেশটির একাধিক শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সরকার নতুনভাবে ‘ভয়াবহ গরমের দিন’ হিসেবে দিনটিকে চিহ্নিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের সতর্কতা
আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপজনিত অসুস্থতার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী টোকিওর উত্তরের কুমাগায়া এবং মধ্যাঞ্চলের নাগোয়াসহ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চরম তাপপ্রবাহের কারণে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত পানি পান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাড়ছে তাপজনিত অসুস্থতা
চলতি মাসের ৬ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তাপজনিত অসুস্থতায় ৪ হাজার ৫৮০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেশটির জন্য ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের ঝুঁকিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
নতুন বাস্তবতায় নতুন শ্রেণিবিন্যাস

ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠা গরমের কারণে এ বছর প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিনকে আলাদাভাবে ‘ভয়াবহ গরমের দিন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।
গত বছর দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহের কারণে এক লাখের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সতর্কতাকেই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















