টানা একাদশ রাতের মতো ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, শিগগিরই নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ একটি পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক পরিচালনা কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার স্থান, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক এবং দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা বুশেহর এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ট্রাম্পের নতুন হুমকি
হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, নাতাঞ্জের কাছে পাহাড়ের নিচে থাকা একটি পারমাণবিক স্থাপনা শিগগিরই হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তাঁর দাবি, ওই স্থাপনায় গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কার্যক্রম চলছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সাধারণত তিনি সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য প্রকাশ করেন না। তবে এবার তিনি মনে করেন, ইরানের পক্ষে তা ঠেকানোর কোনো সুযোগ নেই।
ইরানের পাল্টা সতর্কবার্তা
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্ব কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে সেটিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার হিসেবে দেখা হবে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে।

লাল সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবগামী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর জেরে সৌদি তেল বহনকারী কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরান থেকে আসা ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইন ও জর্ডানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধের দাবি করেছে।
অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। হরমুজ ও লাল সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনও চাপের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না হলে সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















