দিল্লিতে সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত বিক্ষোভকারীদের ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে পেলেট গুলির মতো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পাশাপাশি এক নারী বিক্ষোভকারীর ওপর বিদ্যুৎ-শক লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে বলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
আহতদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
আহত তরুণ শেখ ইরশাদ মনসুরির পরিচিতজনদের দাবি, সংসদ অভিযানের সময় কনট প্লেস এলাকার কাছে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে কয়েকটি পেলেট অপসারণ করা হয়েছে। তবে ঘাড়ের একটি পেলেট গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালির খুব কাছে থাকায় সেটি এখনই বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, এ জন্য পরে আবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা সন্ধ্যা পর্যন্ত বেড়ে ৮০-এর বেশি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিক্ষোভকারী যেমন রয়েছেন, তেমনি কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আছেন। আরও একজন আহতকে চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এক কিশোর বিক্ষোভকারীও পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশের অস্বীকার
সামাজিক মাধ্যমে আহতদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর দিল্লি পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পুলিশ জনগণকে যাচাই না করা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
কেন বাড়ছে বিতর্ক
ভারতের বিভিন্ন আন্দোলনে অতীতে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও দিল্লিতে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এমন অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এই প্রথমবার সামনে এসেছে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। একইভাবে বিদ্যুৎ-শক লাঠি ব্যবহারের অভিযোগও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সরঞ্জামের প্রয়োগ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন
আহতদের দেখতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। আহত মনসুরির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কেন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, তা জানতে চাইলে মনসুরি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান।
এদিকে গুরুতর আহত এক তরুণী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, আগের দিনের তুলনায় তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
দিল্লির এই ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















