এশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে বলে আবারও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য যেখানেই সংকট তৈরি হোক না কেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব ও সম্পর্ক কখনও দুর্বল হবে না।
এশিয়াকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি মনোযোগের কারণে এশিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অনেকের ধারণা ছিল, ওয়াশিংটন হয়তো এশিয়া অঞ্চলের গুরুত্ব কমিয়ে দেখছে। সেই প্রেক্ষাপটে রুবিও বলেন, আসিয়ান এবং পুরো অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দেশটির জাতীয় স্বার্থের অংশ এবং এই অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না।
তিনি আরও জানান, বিশ্বের অন্যান্য বড় শক্তির সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও তা কখনও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতির কারণ হবে না।
উত্তেজনার মধ্যেই বৈঠক

আসিয়ানের এবারের বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দক্ষিণ চীন সাগরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ও ফিলিপাইনের জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় এক ফিলিপিনো নৌসদস্য আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে। অন্যদিকে চীন অভিযোগ তোলে, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
আসিয়ানের প্রত্যাশা কী
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানের দেশগুলো এখন এমন একটি অংশীদার চায়, যার নীতিতে ধারাবাহিকতা থাকবে এবং যে অপ্রত্যাশিত সংকট তৈরি করবে না। যদিও ফিলিপাইনের মতো মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে, তবু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।
গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র
সপ্তাহব্যাপী এই বৈঠকে চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকরাও অংশ নিয়েছেন। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধ, মিয়ানমারের গৃহসংঘাত, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও উদ্বোধনী বক্তব্যে আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য আসিয়ান ও চীনের যৌথ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই দিনে রুবিও ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দুই দেশের সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য নিয়েও বার্তা
আসিয়ান বৈঠকের বক্তব্যে রুবিও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে নিজেদের এবং মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও তারা পিছপা হবে না বলে জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















