মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি। একই সময়ে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি এলাকায় হামলার পরিধি বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, টানা একাধিক রাত ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য হুমকি কমিয়ে আনতেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
নতুন লক্ষ্যবস্তুর ইঙ্গিত

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হতে পারে। তার এই মন্তব্যের পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
জবাবে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, এমন হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের আরও বিস্তার হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার বিস্তার
এদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েত ও জর্ডানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধের কথা জানিয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখার তথ্য দিয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক ভবনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের হুমকিতে নতুন উদ্বেগ

ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বন্দর অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সৌদি আরবও এই হুমকাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের যাত্রাপথ পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
যুদ্ধের ব্যয় ও কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটির ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















