ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এনইইটি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বুধবার জানিয়েছে, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে বৈঠক হতে হবে নিরপেক্ষ স্থানে। এদিকে আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনের নেতারা জানান, তারা মন্ত্রীদের দপ্তর বা বাসভবনে যাবেন না। প্রয়োজনে যন্ত্রর মন্তর অথবা কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় বৈঠক হতে পারে। তাদের দাবি, প্রথম দিন থেকেই তারা সংলাপের পক্ষে ছিলেন এবং সরকারই এখন যোগাযোগ করেছে। অপরদিকে সরকারি সূত্রও জানিয়েছে, আলোচনার পথ খোলা রয়েছে এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

যন্ত্রর মন্তরে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ আনা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কয়েকটি স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অবস্থান
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা যন্ত্রর মন্তর ছাড়বেন না। আন্দোলনের মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, গত কয়েক দিনের ঘটনায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আটক আন্দোলনকারীদের সহায়তায় হেল্পলাইন চালু এবং পুলিশের পদক্ষেপের প্রমাণ সংগ্রহে আইনজীবীদের কাজ করার কথাও জানানো হয়েছে।
চার দফা দাবি
আন্দোলনকারীরা চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, এনইইটি প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত আত্মহত্যায় নিহতদের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর না করা।

পুলিশি ব্যবস্থা ও আইনি অগ্রগতি
সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকটিও তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে দায়ের করা একটি আবেদন জরুরি ভিত্তিতে শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীদের দিল্লি হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। বিরোধী সাংসদরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদের বাইরে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তবে তিনি বলেন, সরকার এনইইটি-সংক্রান্ত প্রকৃত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দিল্লিতে এনইইটি আন্দোলন নতুন পর্যায়ে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিতের পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার, আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















