নটিংহ্যাম হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ভ্যালদো ক্যালোকেনের চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধান নিয়ে তদন্তের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের একটি স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে করপোরেট হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
, নটিংহ্যামশায়ার হেলথকেয়ার এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এই তদন্ত পরিচালনা করছে নর্থামব্রিয়া পুলিশ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, হামলার আগে ক্যালোকেনের মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা ও নজরদারিতে কোনো গুরুতর ব্যর্থতা ছিল কি না।
নটিংহ্যাম হামলার পেছনের ঘটনা
২০২৩ সালের ১৩ জুন নটিংহ্যামে ভয়াবহ হামলায় বার্নাবি ওয়েবার, গ্রেস ও’ম্যালি-কুমার এবং ইয়ান কোটস নিহত হন। হামলার আগে ক্যালোকেনের মানসিক সমস্যা শনাক্ত হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় ছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ক্যালোকেনকে এর আগে মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় কয়েকবার হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। তবে ২০২২ সালে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা সাক্ষাতে উপস্থিত না হওয়ায় তাকে চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
হামলার বিষয়ে চলমান সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, ক্যালোকেনের চিকিৎসা দলের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তাকে নজরদারির বাইরে চলে যেতে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, স্বাস্থ্য ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনায় এমন কোনো ত্রুটি ছিল কি না, যা পরবর্তী ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
পরিবার ও সমাজের জন্য জবাবদিহিতার দাবি
স্বাস্থ্য ট্রাস্ট জানিয়েছে, তারা পুলিশ তদন্ত এবং সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং স্থানীয় মানুষের জন্য এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্যালোকেন পরবর্তীতে তিনটি হত্যার দায় স্বীকার করেন। তবে মানসিক অসুস্থতার কারণে দায় কমানোর ভিত্তিতে তাকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য উচ্চ নিরাপত্তার মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগী পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নটিংহ্যাম হামলা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে চলমান এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নটিংহ্যাম হামলায় অভিযুক্তের চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য ট্রাস্টের বিরুদ্ধে করপোরেট হত্যাকাণ্ড তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বাড়ছে জবাবদিহিতার দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















