ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভস্থলে আনন্দ-উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এনইইটি-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে এই ঘটনাকে আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার পদত্যাগের খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমরা পেরেছি। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।” পরে তিনি বলেন, এটি একটি বড় বিজয় এবং এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে দেশ সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে তিনি এটিকে আন্দোলনের শেষ নয়, বরং নতুন সূচনা বলেও উল্লেখ করেন।
আন্দোলনস্থলে উচ্ছ্বাস
পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যন্তর মন্তরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সিজেপির নেতারা আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানান। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারিভাবে লিখিত নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভস্থল ছাড়বেন না।

এদিকে বিক্ষোভস্থলের বাইরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়। প্রবেশপথে আন্দোলনকারীদের নাম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য নথিভুক্ত করার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং তল্লাশিও আগের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়।
পদত্যাগপত্রে যা বললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান
এক্সে প্রকাশিত হিন্দি ভাষার একটি খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সরকারের পদক্ষেপেরও পক্ষে অবস্থান নেন।
তিনি বলেন, ৩ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত এনইইটি-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পরই কেন্দ্র সরকার তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং নতুন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তার দাবি, ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষা কেন্দ্র, রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
‘ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা’
চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন, বিতর্ক চলাকালে দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু এটি ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, দেশের ঐক্য বজায় রাখা এবং আইনগত জটিলতা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখার স্বার্থেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
চিঠির শেষাংশে তিনি তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যেন তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবের ফাঁদে না পড়ে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগী থাকে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের উচ্ছ্বাস, সিজেপির প্রতিক্রিয়া এবং পদত্যাগপত্রে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। সিজেপি এটিকে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করলেও লিখিত সরকারি নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে পদত্যাগপত্রে প্রধান বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, দেশের ঐক্য এবং চলমান সংকটের নৈতিক দায়িত্ব থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















