চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আলীনগর পুলিশ ফাঁড়ির পানির সরবরাহে বিষ বা অন্য কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর সন্দেহে তদন্ত শুরু হয়েছে। পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিন পুলিশ সদস্য। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
পানিতে অস্বাভাবিক ফেনা, ছড়ায় তীব্র গন্ধ
রোববার ঘটনাটি সামনে আসে। যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত সদস্যরা পানিতে অস্বাভাবিক সাদা ফেনা দেখতে পান। একই সঙ্গে পানিতে তীব্র রাসায়নিক গন্ধও পাওয়া যায়।
তবে প্রথমে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে না হওয়ায় তিন সদস্য সেই পানি পান করেন। কিছুক্ষণ পর তারা পানিতে তীব্র গন্ধ টের পান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ক্যাম্পের পানির ট্যাংকেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। পরে আশপাশের এলাকায় বিষাক্ত কোনো পদার্থ রাখা ছিল এমন একটি খালি পাত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পরীক্ষার পর জানা যাবে কী মেশানো হয়েছিল
পুলিশ জানিয়েছে, পানিতে ঠিক কী ধরনের পদার্থ মেশানো হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি বিষ, কীটনাশক নাকি অন্য কোনো রাসায়নিক—পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
ঘটনার পর পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের পানির ট্যাংক পুরোপুরি খালি করে পরিষ্কার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, কেউ হয়তো পানির সরবরাহ লাইনে হস্তক্ষেপ করে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে থাকতে পারে। ফাঁড়িতে পাশের একটি বাড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানির সরবরাহ করা হয়।
সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প
জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সদস্যদের নিয়ে সেখানে একটি অস্থায়ী যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে ৯ মার্চ প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের সমন্বয়ে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সেখানে যৌথ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগেও কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার কারণে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
আগেও ক্যাম্পে বিস্ফোরক হামলা
গত ২৫ মে সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালায়। এতে ক্যাম্পের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ২৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
তবে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা ইয়াসিন এখনো গ্রেপ্তার হননি। তাকে ইয়াসিন বাহিনীর নেতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগের পেছনে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সীতাকুণ্ডের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সন্দেহে তদন্ত চলছে। পানি পান করে অসুস্থ তিন পুলিশ সদস্য এখন আশঙ্কামুক্ত।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















