জাতীয় সংসদের পরিচয় ব্যবহার করে জাল ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) ও সরকারি চিঠি তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে পাঠানোর ঘটনা সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কোনো ডিও বা সরকারি চিঠির ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, সম্প্রতি উপ-স্পিকারের পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা একটি জাল ডিও লেটারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ওই চিঠিতে উপ-স্পিকারের স্বাক্ষর, সরকারি লেটারহেড, সরকারি লোগো এবং স্মারক নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ সুবিধা আদায়
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতারক চক্র জাল স্বাক্ষর ও সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ডিও লেটার তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে জমা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা অনৈতিক ও অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
সংসদ সচিবালয় স্পষ্ট করেছে, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া ওই ডিও লেটারটি জাতীয় সংসদ থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এর সঙ্গে সংসদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
যাচাইয়ের আহ্বান
এ ধরনের প্রতারণা রোধে সচিবালয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের নামে জারি হয়েছে বলে দাবি করা কোনো ডিও বা সরকারি চিঠির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের আইনসভা জাতীয় সংসদের নাম, সরকারি লোগো, অফিসিয়াল লেটারহেড কিংবা অন্য কোনো সরকারি পরিচয় জাল করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
জাতীয় সংসদের নামে জাল ডিও লেটার শনাক্ত হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়ে সচিবালয় বলেছে, সরকারি নথির অপব্যবহার রোধে সবাইকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাতীয় সংসদের নামে জাল ডিও লেটার শনাক্তের পর সচিবালয়ের সতর্কবার্তা। কোনো সরকারি বা ডিও চিঠির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















