০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সূক্ষ্ম সংকট: প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে কীভাবে ইউক্রেনের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যেই ইউরোপীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক মডেল প্রকৃতি ও পাখির টানে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন বিল অডি খোলা পানিতে সাঁতার কতটা নিরাপদ, বৃষ্টির পর বাড়ে যে ভয় রাশিয়ার বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের বিতর্কে ইতালির কোচের দৌড় থেকে ছিটকে পিরলো আঠা-লেবেল ছাড়াই কাগজের প্যাকেজিং, বদলে যেতে পারে পুনর্ব্যবহারের ভবিষ্যৎ বালিতে বিদেশিদের দৌড় ক্লাবে স্থানীয়দের বাদ দেওয়ার অভিযোগ, দুই ডাচ নাগরিক নিষিদ্ধ আসামে ভয়াবহ বন্যা, ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ জাপানে প্রথম মসজিদ নির্মাণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, পরিচয় সংকটে ফুজিসাওয়া আয়ারল্যান্ডের উপকূলে বিশাল হাঙরের অবিশ্বাস্য কাছাকাছি দেখা মিলছে

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানই প্রধান আলোচ্য, ওয়াশিংটনের পথে নেতানিয়াহু

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই নেতার মুখোমুখি এই বৈঠকে ইরানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

দীর্ঘ বিরতির পর মুখোমুখি বৈঠক

নেতানিয়াহু সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তাঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর অষ্টম বৈঠক। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তাঁরা সরাসরি মুখোমুখি বসছেন।

ফেব্রুয়ারির ওই সময়ের পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ বিমান অভিযান শুরু করেছিল। চলতি মাসেও ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের একটি ব্যাপক বোমা হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

পরে সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্প ওই অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। ইরানও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও পাল্টা হামলা স্থগিত রাখবে। তবে ইসরায়েল সতর্ক করে দিয়েছে, ইরান আবার হামলা চালালে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

Trump says Iran deal 'very possible' but threatens strikes if talks fail

ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহুর

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা—দুটিই প্রয়োজন। বৈঠকে আলোচ্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হবে, তবে এর মধ্যে ইরানই প্রধান গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে থেমে গেলেও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন

দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক জায়গায় থাকছে না বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জুন মাসে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত একটি ফোনালাপের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়। পরে ট্রাম্প নিজেও ওই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Trump-Netanyahu sitdown under discussion, but no meeting set

তবে ইরানকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গাজা ও লেবাননও আলোচনায় আসতে পারে

ইরানের পাশাপাশি গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশের বিষয়ে ইসরায়েল সম্মতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ ছাড়া জুলাইয়ের ২১ তারিখে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের কিছু সেনা পুনর্বিন্যাসের কথাও জানিয়েছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে লেবাননের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যে সমঝোতাগুলো হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতানিয়াহুর সফর

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটি নেতানিয়াহুর জন্য শুধু পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

আমেরিকার কাছ থেকে ইসরায়েল কত অস্ত্র আর অর্থ সাহায্য পায়? - BBC News বাংলা

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন আগের তুলনায় কমছে। ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরান, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নেতানিয়াহু কী অবস্থান নেন, তা দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কমানো, ইরানকে ঘিরে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা এবং আঞ্চলিক শান্তির পথ খোঁজা—সব মিলিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এবারের বৈঠকের দিকে তাই নজর থাকবে পুরো অঞ্চলের।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যবর্তী নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সূক্ষ্ম সংকট: প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে কীভাবে

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানই প্রধান আলোচ্য, ওয়াশিংটনের পথে নেতানিয়াহু

১২:০১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই নেতার মুখোমুখি এই বৈঠকে ইরানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

দীর্ঘ বিরতির পর মুখোমুখি বৈঠক

নেতানিয়াহু সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তাঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর অষ্টম বৈঠক। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তাঁরা সরাসরি মুখোমুখি বসছেন।

ফেব্রুয়ারির ওই সময়ের পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ বিমান অভিযান শুরু করেছিল। চলতি মাসেও ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের একটি ব্যাপক বোমা হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

পরে সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্প ওই অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। ইরানও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও পাল্টা হামলা স্থগিত রাখবে। তবে ইসরায়েল সতর্ক করে দিয়েছে, ইরান আবার হামলা চালালে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

Trump says Iran deal 'very possible' but threatens strikes if talks fail

ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহুর

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা—দুটিই প্রয়োজন। বৈঠকে আলোচ্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হবে, তবে এর মধ্যে ইরানই প্রধান গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে থেমে গেলেও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন

দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক জায়গায় থাকছে না বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জুন মাসে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত একটি ফোনালাপের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়। পরে ট্রাম্প নিজেও ওই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Trump-Netanyahu sitdown under discussion, but no meeting set

তবে ইরানকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গাজা ও লেবাননও আলোচনায় আসতে পারে

ইরানের পাশাপাশি গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশের বিষয়ে ইসরায়েল সম্মতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ ছাড়া জুলাইয়ের ২১ তারিখে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের কিছু সেনা পুনর্বিন্যাসের কথাও জানিয়েছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে লেবাননের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যে সমঝোতাগুলো হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতানিয়াহুর সফর

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটি নেতানিয়াহুর জন্য শুধু পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

আমেরিকার কাছ থেকে ইসরায়েল কত অস্ত্র আর অর্থ সাহায্য পায়? - BBC News বাংলা

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন আগের তুলনায় কমছে। ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরান, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নেতানিয়াহু কী অবস্থান নেন, তা দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কমানো, ইরানকে ঘিরে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা এবং আঞ্চলিক শান্তির পথ খোঁজা—সব মিলিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এবারের বৈঠকের দিকে তাই নজর থাকবে পুরো অঞ্চলের।