০৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা চাকরি পেতে যোগ্যতার পাশাপাশি আপনার পোশাক-পরিচ্ছদও কি গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমানের তৎপরতা, যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ব এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত আরও একজন ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও ২০২৮ সালে জেডি ভ্যান্সই কেন এগিয়ে, রুবিওর সম্ভাবনা কতটা যুদ্ধের ক্ষত পেরিয়ে ইরান: শোক, ক্ষোভ আর টিকে থাকার লড়াই ইবোলা ঠেকাতে সীমান্তে দড়ি, কঙ্গোর পাশের উগান্ডার শহরে নেই নতুন সংক্রমণ চার শিল্পীর ভিন্ন ভাবনায় নতুন আলোচনায় কোরিয়ার শিল্পজগৎ বিশ্বকাপের হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, বর্ণবাদ বিতর্কে নতুন প্রশ্ন

স্কটল্যান্ডের সমুদ্রে জেলিফিশের আতঙ্ক কতটা, সাঁতার কাটতে কি সত্যিই ভয় পাওয়ার দরকার?

স্কটল্যান্ডের সমুদ্রসৈকতে এখন জেলিফিশ দেখার ব্যস্ত মৌসুম। জুলাই ও আগস্টে সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলের কাছে জেলিফিশের উপস্থিতিও বেড়ে যায়। দেখতে রহস্যময় ও সুন্দর হলেও এই সামুদ্রিক প্রাণীকে ঘিরে মানুষের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক—বিশেষ করে এর শুঁড়ের হুলের কারণে।

তবে জেলিফিশ কি সত্যিই মানুষের জন্য বড় বিপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কটল্যান্ডের পানিতে দেখা বেশির ভাগ জেলিফিশের হুল খুবই মৃদু। তাই আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সতর্ক থাকাই বেশি জরুরি।

গরমে কেন বাড়ে জেলিফিশ

জেলিফিশের সংখ্যা ও বিস্তারের ওপর সমুদ্রের তাপমাত্রা, খাদ্য হিসেবে থাকা অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর পরিমাণ এবং সমুদ্রস্রোতের বড় প্রভাব রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির তাপমাত্রা বাড়লে এসব প্রাণীর খাদ্যও বাড়ে। ফলে জেলিফিশের প্রজনন দ্রুত হয় এবং কখনো কখনো বিপুল সংখ্যায় একসঙ্গে জড়ো হয়ে পানিতে ঘন স্তর তৈরি করে।

জেলিফিশ খুব শক্তিশালী সাঁতারু নয়। সমুদ্রস্রোতের ওপর ভর করেই তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভেসে যায়। গ্রীষ্মে সমুদ্র অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকায় অনেক সময় স্রোতের টানে জেলিফিশ উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে।

কখনো এদের সংখ্যা এত বেশি হয় যে পানিতে বিশাল ঝাঁক তৈরি হয়। অতীতে এমন বিপুল উপস্থিতির কারণে নৌযান ও সামুদ্রিক স্থাপনাতেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

How afraid should we be of Scotland's jellyfish? - BBC News

হুল কতটা ভয়ংকর

স্কটল্যান্ডে জেলিফিশের হুল সাধারণত প্রাণঘাতী নয়। তবে কিছু প্রজাতির হুল বেশ ব্যথাদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে সিংহের কেশর জেলিফিশ নামে পরিচিত বাদামি-কমলা রঙের প্রজাতিটি গরমের সময় স্কটল্যান্ডের উপকূলে বেশি দেখা যায়।

এর লম্বা শুঁড় শরীরে লাগলে ব্যথা ও জ্বালা হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জেলিফিশের শুঁড় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার হুল ফোটানোর ক্ষমতা কিছু সময় সক্রিয় থাকতে পারে। এমনকি সৈকতে পড়ে থাকা জেলিফিশকেও হাত দিয়ে স্পর্শ করা নিরাপদ নয়।

অন্যদিকে ব্যারেল জেলিফিশ সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। অর্থাৎ সমুদ্রে জেলিফিশ দেখলেই সেটিকে বিপজ্জনক ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

মানুষকে আক্রমণ করে না জেলিফিশ

জেলিফিশ ইচ্ছা করে মানুষকে হুল ফোটায় না। মানুষের শরীর তাদের খাদ্যও নয়। শুঁড়ের সঙ্গে কোনো কিছু স্পর্শ করলেই জেলিফিশের দেহে থাকা বিশেষ হুল ফোটানো কোষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে যায়।

এই কোষ থেকে ক্ষুদ্র বিষাক্ত নল বের হয়ে শিকারকে অচল করার চেষ্টা করে। তাই মানুষকে হুল ফোটানো মূলত দুর্ঘটনাজনিত স্পর্শের ফল, পরিকল্পিত আক্রমণ নয়।

জেলিফিশ দেখলে কি সমুদ্রে নামা বন্ধ করতে হবে

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভয় নয়—সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জেলিফিশ দেখলে শান্তভাবে তার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়াই ভালো। পানিতে নামার আগে স্থানীয় সৈকতে জেলিফিশের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা থাকলে সেটিও খেয়াল করা উচিত।

ডুবুরিরা পানির স্বচ্ছতা ভালো থাকলে জেলিফিশের অবস্থান দেখে সহজেই এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সাঁতার কাটার সময় পানির নিচে থাকা শুঁড় সবসময় দেখা যায় না। তাই জেলিফিশের সংখ্যা বেশি হলে শিশুদের পানিতে নামানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

How afraid should we be of Scotland's jellyfish? - BBC News

হুল ফুটলে কী করবেন

জেলিফিশের হুলে আক্রান্ত হলে দ্রুত শুঁড় সরিয়ে ফেলা জরুরি। এজন্য খালি হাতে না ধরে চিমটি বা শক্ত কোনো কার্ডের কিনারা ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যথা ও ফোলা কমাতে গরম পানিতে আক্রান্ত অংশ ডুবিয়ে রাখা বা গরম সেঁক দেওয়া উপকারী হতে পারে।

তবে শরীরের সংবেদনশীল অংশে হুল ফুটলে, অথবা শারীরিক উপসর্গ বেশি গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ভয় নয়, জেলিফিশকে জানুন

জেলিফিশকে অনেকেই ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে দেখেন। কিন্তু সমুদ্রের পরিবেশে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের শুঁড়ের আশপাশে ছোট মাছও আশ্রয় নেয়। আবার পানির নিচে ভেসে থাকা জেলিফিশের দৃশ্য অনেক সময় অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুন্দর।

তাই স্কটল্যান্ডের সমুদ্রে জেলিফিশ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর প্রয়োজন নেই। বরং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তাদের চলাচল দেখা এবং প্রয়োজন হলে উপস্থিতির খবর জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

জুলাই-আগস্টে জেলিফিশের উপস্থিতি বাড়লেও অধিকাংশ প্রজাতি মানুষের জন্য বড় হুমকি নয়। সমুদ্র উপভোগের ক্ষেত্রে তাই সবচেয়ে ভালো নীতি হতে পারে—ভয় নয়, সচেতনতা।

স্কটল্যান্ডের সমুদ্রে জেলিফিশের উপস্থিতি এখন তুঙ্গে। বেশির ভাগ প্রজাতির হুল মৃদু হলেও সতর্ক থাকা জরুরি। জেলিফিশ মানুষকে ইচ্ছা করে আক্রমণ করে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

স্কটল্যান্ডের সমুদ্রে জেলিফিশের আতঙ্ক কতটা, সাঁতার কাটতে কি সত্যিই ভয় পাওয়ার দরকার?

০৬:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

স্কটল্যান্ডের সমুদ্রসৈকতে এখন জেলিফিশ দেখার ব্যস্ত মৌসুম। জুলাই ও আগস্টে সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলের কাছে জেলিফিশের উপস্থিতিও বেড়ে যায়। দেখতে রহস্যময় ও সুন্দর হলেও এই সামুদ্রিক প্রাণীকে ঘিরে মানুষের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক—বিশেষ করে এর শুঁড়ের হুলের কারণে।

তবে জেলিফিশ কি সত্যিই মানুষের জন্য বড় বিপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কটল্যান্ডের পানিতে দেখা বেশির ভাগ জেলিফিশের হুল খুবই মৃদু। তাই আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সতর্ক থাকাই বেশি জরুরি।

গরমে কেন বাড়ে জেলিফিশ

জেলিফিশের সংখ্যা ও বিস্তারের ওপর সমুদ্রের তাপমাত্রা, খাদ্য হিসেবে থাকা অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর পরিমাণ এবং সমুদ্রস্রোতের বড় প্রভাব রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির তাপমাত্রা বাড়লে এসব প্রাণীর খাদ্যও বাড়ে। ফলে জেলিফিশের প্রজনন দ্রুত হয় এবং কখনো কখনো বিপুল সংখ্যায় একসঙ্গে জড়ো হয়ে পানিতে ঘন স্তর তৈরি করে।

জেলিফিশ খুব শক্তিশালী সাঁতারু নয়। সমুদ্রস্রোতের ওপর ভর করেই তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভেসে যায়। গ্রীষ্মে সমুদ্র অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকায় অনেক সময় স্রোতের টানে জেলিফিশ উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে।

কখনো এদের সংখ্যা এত বেশি হয় যে পানিতে বিশাল ঝাঁক তৈরি হয়। অতীতে এমন বিপুল উপস্থিতির কারণে নৌযান ও সামুদ্রিক স্থাপনাতেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

How afraid should we be of Scotland's jellyfish? - BBC News

হুল কতটা ভয়ংকর

স্কটল্যান্ডে জেলিফিশের হুল সাধারণত প্রাণঘাতী নয়। তবে কিছু প্রজাতির হুল বেশ ব্যথাদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে সিংহের কেশর জেলিফিশ নামে পরিচিত বাদামি-কমলা রঙের প্রজাতিটি গরমের সময় স্কটল্যান্ডের উপকূলে বেশি দেখা যায়।

এর লম্বা শুঁড় শরীরে লাগলে ব্যথা ও জ্বালা হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জেলিফিশের শুঁড় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার হুল ফোটানোর ক্ষমতা কিছু সময় সক্রিয় থাকতে পারে। এমনকি সৈকতে পড়ে থাকা জেলিফিশকেও হাত দিয়ে স্পর্শ করা নিরাপদ নয়।

অন্যদিকে ব্যারেল জেলিফিশ সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। অর্থাৎ সমুদ্রে জেলিফিশ দেখলেই সেটিকে বিপজ্জনক ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

মানুষকে আক্রমণ করে না জেলিফিশ

জেলিফিশ ইচ্ছা করে মানুষকে হুল ফোটায় না। মানুষের শরীর তাদের খাদ্যও নয়। শুঁড়ের সঙ্গে কোনো কিছু স্পর্শ করলেই জেলিফিশের দেহে থাকা বিশেষ হুল ফোটানো কোষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে যায়।

এই কোষ থেকে ক্ষুদ্র বিষাক্ত নল বের হয়ে শিকারকে অচল করার চেষ্টা করে। তাই মানুষকে হুল ফোটানো মূলত দুর্ঘটনাজনিত স্পর্শের ফল, পরিকল্পিত আক্রমণ নয়।

জেলিফিশ দেখলে কি সমুদ্রে নামা বন্ধ করতে হবে

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভয় নয়—সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জেলিফিশ দেখলে শান্তভাবে তার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়াই ভালো। পানিতে নামার আগে স্থানীয় সৈকতে জেলিফিশের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা থাকলে সেটিও খেয়াল করা উচিত।

ডুবুরিরা পানির স্বচ্ছতা ভালো থাকলে জেলিফিশের অবস্থান দেখে সহজেই এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সাঁতার কাটার সময় পানির নিচে থাকা শুঁড় সবসময় দেখা যায় না। তাই জেলিফিশের সংখ্যা বেশি হলে শিশুদের পানিতে নামানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

How afraid should we be of Scotland's jellyfish? - BBC News

হুল ফুটলে কী করবেন

জেলিফিশের হুলে আক্রান্ত হলে দ্রুত শুঁড় সরিয়ে ফেলা জরুরি। এজন্য খালি হাতে না ধরে চিমটি বা শক্ত কোনো কার্ডের কিনারা ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যথা ও ফোলা কমাতে গরম পানিতে আক্রান্ত অংশ ডুবিয়ে রাখা বা গরম সেঁক দেওয়া উপকারী হতে পারে।

তবে শরীরের সংবেদনশীল অংশে হুল ফুটলে, অথবা শারীরিক উপসর্গ বেশি গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ভয় নয়, জেলিফিশকে জানুন

জেলিফিশকে অনেকেই ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে দেখেন। কিন্তু সমুদ্রের পরিবেশে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের শুঁড়ের আশপাশে ছোট মাছও আশ্রয় নেয়। আবার পানির নিচে ভেসে থাকা জেলিফিশের দৃশ্য অনেক সময় অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুন্দর।

তাই স্কটল্যান্ডের সমুদ্রে জেলিফিশ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর প্রয়োজন নেই। বরং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তাদের চলাচল দেখা এবং প্রয়োজন হলে উপস্থিতির খবর জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

জুলাই-আগস্টে জেলিফিশের উপস্থিতি বাড়লেও অধিকাংশ প্রজাতি মানুষের জন্য বড় হুমকি নয়। সমুদ্র উপভোগের ক্ষেত্রে তাই সবচেয়ে ভালো নীতি হতে পারে—ভয় নয়, সচেতনতা।

স্কটল্যান্ডের সমুদ্রে জেলিফিশের উপস্থিতি এখন তুঙ্গে। বেশির ভাগ প্রজাতির হুল মৃদু হলেও সতর্ক থাকা জরুরি। জেলিফিশ মানুষকে ইচ্ছা করে আক্রমণ করে না।