চীনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ আবারও বেড়েছে। চলতি বছরে প্রথমবারের মতো শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার ইনফ্লুয়েঞ্জাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে আক্রান্তদের বেশিরভাগের উপসর্গ মৃদু এবং পরিস্থিতি এখনই বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
কোভিড-১৯ কেন বাড়ছে
চীনে বর্তমানে ওমিক্রনের নতুন ধরন এনবি.১.৮.১-এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনটির সংক্রমণ এখন মাঝারি মাত্রায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে পরীক্ষায় কোভিড-১৯ শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১৩ থেকে ১৯ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় কোভিড-১৯ শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশে। এর আগের সপ্তাহের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

অন্যদিকে একই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
সংক্রমণ বাড়লেও উপসর্গ বেশিরভাগের মৃদু
সংক্রমণ বাড়লেও অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থতার খবর পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বেশিরভাগের উপসর্গ মৃদু।
চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান সংক্রমণের মাত্রা গত বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে সংক্রমণ বাড়লেও এখনই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে
চীনে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন ধরনটির বিস্তার, আক্রান্তদের উপসর্গ এবং সংক্রমণের মাত্রার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগের সঙ্গে কোভিড-১৯-এর অবস্থানও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সংক্রমণ বাড়ার বিষয়টি নজরে রাখার মতো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখার মতো তথ্য এখনো নেই। তবে নতুন ধরনটির বিস্তার অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
চীনে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়লেও অধিকাংশ রোগীর উপসর্গ মৃদু। নতুন ধরন এনবি.১.৮.১-এর বিস্তার নিয়ে নজরদারি চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















