ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশু ও তার দাদা-দাদি নিহত হয়েছেন। একই রাতে রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। হামলায় ওই পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত শিশুটির ১৫ বছর বয়সী ভাই, মা-বাবা এবং এক প্রতিবেশী আহত হয়েছেন।
কিয়েভের কাছে ভয়াবহ হামলা
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর কাছের ব্রোভারস্কি জেলায় তিনটি স্থানে রুশ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০টি ব্যক্তিগত বাড়ি, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও উৎপাদনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুহিভকা গ্রামের একটি বাড়িতে রুশ ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। গ্রামটি কিয়েভ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। ওই বাড়িতেই তিন বছরের শিশুটি ও তার দাদা-দাদি নিহত হন।
হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ও দমকলকর্মীরা কাজ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়।
এক রাতেই শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫১টি ড্রোন ছুড়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৩৫টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারেনি।
কিয়েভের তিনটি জেলায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় থাকা রয়টার্সের সাংবাদিকরা শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই যুদ্ধে বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আকাশ প্রতিরক্ষায় ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেশটির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ছোড়া ১৯৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র ২৯টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের মিত্ররা যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভর করছেন। তার ভাষায়, রাশিয়ার ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
রাশিয়াতেও ইউক্রেনের হামলার দাবি
রাতভর পাল্টা হামলায় ইউক্রেন রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ। ইলস্কি ও সিজরান তেল শোধনাগারে হামলার পর আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের ইভানিভকা বসতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















