সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকালে কাশিকাপুর এলাকায় ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সিলেট জেলা প্রশাসন শনিবার জানিয়েছে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান, যাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ জন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে এবং নিহতদের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একজনকে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজবে তদন্ত কমিটি
জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কটি তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো কিংবা চালকের ক্লান্তিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে শনিবার সকালে হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আলাদা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধিতার শিকার প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা এবং আহত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

দুই বাসের নিবন্ধন বাতিল
দুর্ঘটনার পর দুই বাসের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ শনিবার সন্ধ্যায় জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুই বাসের নিবন্ধন আপাতত বাতিল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই বাসের চালক ও মালিককে পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে হাজির হয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বিআরটিএর এই কর্মকর্তা।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















