তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অভিযোগ করেছেন, আঞ্চলিক সংঘাত ও অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে ইসরায়েল।
১৩ আগস্ট ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আঙ্কারায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার আঞ্চলিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ফিলিস্তিনকে মানবজাতির অভিন্ন আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েল যত চেষ্টাই করুক, এই উদ্যোগ সফল হবে না। ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ‘তারা যা-ই করুক না কেন, সফল হবে না। ফিলিস্তিনের দাবি মানুষের হৃদয়ে আরও শক্তিশালী হতে থাকবে।’
স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

তুরস্ক ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান এরদোয়ান। তার বক্তব্যে ফিলিস্তিন ইস্যুকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ১২ আগস্ট আঙ্কারায় পৌঁছান। এর পরদিন এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠককে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন আব্বাস।
আব্বাসের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলও তুরস্ক সফর করে। ওই দলে ছিলেন ফিলিস্তিনি গোয়েন্দা প্রধান মাজেদ ফারাজ, কূটনৈতিক উপদেষ্টা মাজদি খালিদি এবং জিয়াদ আবু আমরের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চলমান সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা হয়। এরদোয়ানের বক্তব্যে আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও ফিলিস্তিন ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রাখার তুরস্কের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এরদোয়ানের সাম্প্রতিক মন্তব্যেও সেই অবস্থানের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















