০৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা

ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ায় উগ্র ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির উত্থান দেশটির এশিয়ায় কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে দুর্বল করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। তাঁর আশঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া যদি বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক সংকুচিত করে অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তাহলে দেশটি ‘বিপজ্জনক বিশ্বে একা’ হয়ে পড়তে পারে।

সিডনিতে অ্যালান গিঙ্গেল স্মারক বক্তৃতায় পেনি ওং বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশেষ করে বহুসাংস্কৃতিক সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং বিদেশি অংশীদারদের অবমূল্যায়নের রাজনীতির সমালোচনা করেন।

বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে অস্ট্রেলিয়ার শক্তি হিসেবে দেখার আহ্বান

ওং বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক চরিত্র দেশটির জাতীয় সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার সক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক বিকল্প ও সুযোগ বাড়ায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, একক সংস্কৃতিভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান অস্ট্রেলিয়াকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এতে বন্ধু, বাণিজ্যিক অংশীদার ও সহযোগিতার সুযোগ কমে যাবে এবং দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ওয়ান নেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

ওং তাঁর বক্তৃতায় সরাসরি ওয়ান নেশন দলের নাম না নিলেও দলটির নেতা পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। হ্যানসন অস্ট্রেলিয়াকে একক সংস্কৃতির সমাজে পরিণত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং অভিবাসনের মাত্রা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ওংয়ের বক্তব্যকে দলটির নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অন্যতম কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দলটির সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিভাজন জাতীয় নিরাপত্তাকেও দুর্বল করতে পারে

পেনি ওংয়ের মতে, দেশের নাগরিকদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া শুধু সামাজিক সম্প্রীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জাতীয় নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে। অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়লে বাইরের শক্তির জন্য অস্ট্রেলিয়াকে প্রভাবিত করা সহজ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সহনশীলতা ও প্রতিরোধক্ষমতার ভিত্তি হলো দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্মান এবং একসঙ্গে বসবাসের সক্ষমতা। বিভাজন অস্ট্রেলিয়াকে শক্তিশালী না করে বরং আরও দুর্বল করে তুলবে।

এশিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি

বক্তৃতায় ওং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নিজস্ব অঞ্চল, অর্থাৎ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা জরুরি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু একটি শক্তির ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো প্রয়োজন। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়া ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।

‘বিপজ্জনক বিশ্বে একা’ হওয়ার সতর্কবার্তা

ওংয়ের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, অর্থনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক ঐক্য এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ও জাতীয় শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি সতর্ক করেন, যারা রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেন, তারা দেশের অভ্যন্তরে দুর্বলতা বাড়ান এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্ট্রেলিয়াকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলেন। তাঁর মতে, বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ রক্ষা করবে না; বরং দেশটিকে ক্রমেই একাকী করে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও

ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা

০৯:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় উগ্র ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির উত্থান দেশটির এশিয়ায় কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে দুর্বল করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। তাঁর আশঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া যদি বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক সংকুচিত করে অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তাহলে দেশটি ‘বিপজ্জনক বিশ্বে একা’ হয়ে পড়তে পারে।

সিডনিতে অ্যালান গিঙ্গেল স্মারক বক্তৃতায় পেনি ওং বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশেষ করে বহুসাংস্কৃতিক সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং বিদেশি অংশীদারদের অবমূল্যায়নের রাজনীতির সমালোচনা করেন।

বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে অস্ট্রেলিয়ার শক্তি হিসেবে দেখার আহ্বান

ওং বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক চরিত্র দেশটির জাতীয় সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার সক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক বিকল্প ও সুযোগ বাড়ায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, একক সংস্কৃতিভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান অস্ট্রেলিয়াকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এতে বন্ধু, বাণিজ্যিক অংশীদার ও সহযোগিতার সুযোগ কমে যাবে এবং দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ওয়ান নেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

ওং তাঁর বক্তৃতায় সরাসরি ওয়ান নেশন দলের নাম না নিলেও দলটির নেতা পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। হ্যানসন অস্ট্রেলিয়াকে একক সংস্কৃতির সমাজে পরিণত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং অভিবাসনের মাত্রা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ওংয়ের বক্তব্যকে দলটির নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অন্যতম কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দলটির সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিভাজন জাতীয় নিরাপত্তাকেও দুর্বল করতে পারে

পেনি ওংয়ের মতে, দেশের নাগরিকদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া শুধু সামাজিক সম্প্রীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জাতীয় নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে। অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়লে বাইরের শক্তির জন্য অস্ট্রেলিয়াকে প্রভাবিত করা সহজ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সহনশীলতা ও প্রতিরোধক্ষমতার ভিত্তি হলো দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্মান এবং একসঙ্গে বসবাসের সক্ষমতা। বিভাজন অস্ট্রেলিয়াকে শক্তিশালী না করে বরং আরও দুর্বল করে তুলবে।

এশিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি

বক্তৃতায় ওং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নিজস্ব অঞ্চল, অর্থাৎ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা জরুরি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু একটি শক্তির ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো প্রয়োজন। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়া ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।

‘বিপজ্জনক বিশ্বে একা’ হওয়ার সতর্কবার্তা

ওংয়ের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, অর্থনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক ঐক্য এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ও জাতীয় শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি সতর্ক করেন, যারা রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেন, তারা দেশের অভ্যন্তরে দুর্বলতা বাড়ান এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্ট্রেলিয়াকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলেন। তাঁর মতে, বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ রক্ষা করবে না; বরং দেশটিকে ক্রমেই একাকী করে তুলবে।