ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো ২০২৭ সালে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন।
দেশটির সংসদে বার্ষিক ভাষণে প্রবোও জানান, আগামী বছর সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪২৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া, যা চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। সরকারের মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া। এর ফলে মোট বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে মোট দেশজ উৎপাদনের ২ দশমিক ৪ শতাংশে।
প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্য
২০২৭ সালের জন্য ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। একই সঙ্গে সরকার মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার এবং রুপিয়ার বিনিময় হার প্রতি মার্কিন ডলারে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ রুপিয়ায় ধরে রাখার হিসাব করেছে।
প্রবোওর সরকার খাদ্য ও জ্বালানি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চাইছে। বিনিয়োগ থেকে কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
পণ্যবাজারে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ
প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে দেশের আয় বাড়াতে নতুন পণ্য বিনিময় বাজার চালুর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন প্রবোও। নিকেল, টিন, সোনা, কয়লা ও পাম তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের অভ্যন্তরীণ মূল্য নির্ধারণে ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। নতুন বাজারটি ২০২৭ সালের শুরুতে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রবোওর মতে, বিশ্বের অন্যতম বড় পণ্য উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ অর্থনৈতিক সুবিধা দেশের মানুষ পাচ্ছে না। তাই শুধু পণ্য রপ্তানিকারক না থেকে মূল্য নির্ধারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায় জাকার্তা।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে বড় সংস্কার
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রবোও সরকার। অকার্যকর ও লোকসানি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা একীভূত করে রাষ্ট্রের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে থাকা ১ হাজার ৭৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০০-তে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। পণ্যের আন্তর্জাতিক দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসা, মুদ্রার ওপর চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















