০৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সেলেনা গোমেজের মানসিক স্বাস্থ্য উদ্যোগে বড় সংকট, বিনিয়োগকারীদের মামলা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, ঝুঁকিও কম নয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও ওলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ জাপানে ভয়াবহ বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে নিহত ৯, ডুবেছে হাজারের বেশি ঘর জ্বালানি ভর্তুকি শেষ হলেই কেন মূল্যস্ফীতির আগুন জ্বলে ওঠে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর মক্কা চুক্তিতে মিসরকে সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে চান এরদোয়ান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস বাংলাদেশের, ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় পেনাল্টি মিসের হ্যাটট্রিক, মেসির মায়ামির টানা তৃতীয় হার ফিলিস্তিনিদের পানিতে বসতি স্থাপনকারীদের সুইমিংপুল, পশ্চিম তীরে নতুন ‘পানিযুদ্ধ’

ফিলিস্তিনিদের পানিতে বসতি স্থাপনকারীদের সুইমিংপুল, পশ্চিম তীরে নতুন ‘পানিযুদ্ধ’

পশ্চিম তীরের তীব্র গরমে যখন পানির জন্য ফিলিস্তিনিদের হাহাকার, তখন তাদের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার ঝরনার পানি সরিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সাঁতারের পুকুর। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এমন কর্মকাণ্ডে শুধু পানির সংকটই বাড়েনি, ধ্বংসের মুখে পড়েছে ফিলিস্তিনি কৃষি, জীবিকা ও বহু পরিবারের আয়-রোজগার।

জর্ডান উপত্যকার ফাসায়িল গ্রামের একটি প্রাকৃতিক ঝরনা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের জীবনধারণের অন্যতম প্রধান উৎস। এই ঝরনার পানি দিয়ে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হতো। একই সঙ্গে অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ঘরোয়া ব্যবহারের পানির ঘাটতিও মেটাতেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কিন্তু গত জুনে ওই ঝরনার পানি বহনকারী সেচের পাইপলাইন দখলে নিয়ে সেটির গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রাচীন একটি জলাধারে সেই পানি জমিয়ে সেখানে সাঁতারের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখন ওই জায়গাটিকে কেন্দ্র করে বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি

ফাসায়িলের কৃষক সাদ নিমেরের জমিতে সাধারণত বেগুন, জুচিনি ও তরমুজের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হতো। কিন্তু পানির সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও জমিতে নতুন করে ফসল লাগাতে পারেননি তিনি।

তার ভাষ্য, পানির সরবরাহ বন্ধ থাকায় শুধু কৃষিকাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বহু পরিবারের কর্মসংস্থান ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঝরনার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি কৃষকদের কর্মীদের ওপর হামলা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জানিয়েছেন, এখন সেখানে বিপুলসংখ্যক ইহুদি মানুষ সাঁতার কাটতে আসেন। ফলে ফিলিস্তিনিরা ওই এলাকায় আসতে ভয় পান।

দখলের সঙ্গে বাড়ছে পানির সংকট

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর হামলা এখন বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অন্তত ১৬০টি পানি ও পয়োনিষ্কাশন স্থাপনায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, পানি ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে নিজেদের জমিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

পানি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আদেল ইয়াসিন এই পরিস্থিতিকে ‘পানিযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গুলি বা বিস্ফোরণের মতো সরাসরি শব্দ না থাকলেও পানির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া ফিলিস্তিনিদের জীবন ও জীবিকাকে ধীরে ধীরে অচল করে দিচ্ছে।

জর্ডান উপত্যকায় ঝরনা দখলের অভিযোগ

ফিলিস্তিনি মাঠগবেষক ফারেস ফোকাহার দাবি, উত্তর জর্ডান উপত্যকার প্রায় ৯৫ শতাংশ ঝরনার নিয়ন্ত্রণ এখন বসতি স্থাপনকারীদের হাতে চলে গেছে। এর ফলে বেশ কিছু ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় নিজেদের বসতভূমি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামেও কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িকে ঘিরে অবরোধের পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।

ফিলিস্তিনিদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য কেবল পানি দখল নয়; বরং কৃষিকাজ, পশুপালন, বসবাস ও দৈনন্দিন জীবনকে ক্রমশ কঠিন করে তুলে মানুষকে নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য করা।

The Palestinian freshwater springs being seized by Israeli settlers | Reuters

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার অভিযোগ

ফাসায়িলের ওই প্রাচীন জলাধার নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ দাবি করছে, জলাধারটি প্রাচীন ইহুদি রাজা হেরোদের সময়কার।

তবে ইসরায়েলি প্রত্নতত্ত্ববিদ আলোন আরাদের মতে, জলাধারটির প্রকৃত ঐতিহাসিক পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তার অভিযোগ, পশ্চিম তীরকে একচেটিয়াভাবে ইহুদি ভূখণ্ড হিসেবে উপস্থাপনের জন্য প্রত্নতত্ত্বকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তার আরও দাবি, প্রাচীন স্থাপনাটিকে পানিতে ভরিয়ে সেখানে মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা করায় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জলাধারের পাশে এমন একটি প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হিসেবে জলাধারটির পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন, যে পানি দিয়ে তাদের জমি সেচ দেওয়া হতো, সেই পানি কীভাবে তাদের চোখের সামনে একটি বিনোদনকেন্দ্রের পুকুরে পরিণত হলো?

নাবলুসের ঝরনাতেও বাড়ছে আতঙ্ক

নাবলুসের কাছে ওয়াদি আল-বাধানের প্রাকৃতিক ঝরনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিনোদন ও অবকাশযাপনের জায়গা ছিল। চলতি বছরের আগে সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ খুব একটা দেখা যায়নি।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শত শত বসতি স্থাপনকারী সেখানে গিয়ে ঝরনার পানিতে সময় কাটিয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে এলাকাটির স্বাভাবিক পরিবেশও বদলে গেছে।

প্রাকৃতিক ঝরনা কেন্দ্রের মালিক নিজাম ফারেস বলেন, মানুষ এখন সেখানে যাওয়ার আগে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। বসতি স্থাপনকারীরা আসছে কি না, সেটি নিশ্চিত না হয়ে অনেকে সেখানে যেতে চান না।

পানি এখন পশ্চিম তীরের নতুন সংঘাতের কেন্দ্র

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল ও সহিংসতার পাশাপাশি পানির উৎস নিয়ন্ত্রণও ক্রমেই বড় রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি ঝরনা যেখানে কৃষি, জীবিকা ও বসবাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেখানে একই পানিকে বিনোদনের পুকুরে পরিণত করার ঘটনা পরিস্থিতির গভীর বৈষম্যকে সামনে এনেছে।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের নিজ ভূমিতে টিকে থাকার সক্ষমতাই দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই কারণেই পশ্চিম তীরে পানি এখন শুধু জীবনধারণের উপাদান নয়, দখল ও নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়েরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিনিদের পানির অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে পশ্চিম তীরের এই ঘটনা। যে ঝরনার পানি একসময় কৃষিজমিকে বাঁচাত, সেই পানিই এখন বসতি স্থাপনকারীদের বিনোদনের পুকুরে—আর পানির উৎস হারিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের ফসলি জমি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেলেনা গোমেজের মানসিক স্বাস্থ্য উদ্যোগে বড় সংকট, বিনিয়োগকারীদের মামলা

ফিলিস্তিনিদের পানিতে বসতি স্থাপনকারীদের সুইমিংপুল, পশ্চিম তীরে নতুন ‘পানিযুদ্ধ’

০৫:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিম তীরের তীব্র গরমে যখন পানির জন্য ফিলিস্তিনিদের হাহাকার, তখন তাদের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার ঝরনার পানি সরিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সাঁতারের পুকুর। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এমন কর্মকাণ্ডে শুধু পানির সংকটই বাড়েনি, ধ্বংসের মুখে পড়েছে ফিলিস্তিনি কৃষি, জীবিকা ও বহু পরিবারের আয়-রোজগার।

জর্ডান উপত্যকার ফাসায়িল গ্রামের একটি প্রাকৃতিক ঝরনা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের জীবনধারণের অন্যতম প্রধান উৎস। এই ঝরনার পানি দিয়ে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হতো। একই সঙ্গে অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ঘরোয়া ব্যবহারের পানির ঘাটতিও মেটাতেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কিন্তু গত জুনে ওই ঝরনার পানি বহনকারী সেচের পাইপলাইন দখলে নিয়ে সেটির গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রাচীন একটি জলাধারে সেই পানি জমিয়ে সেখানে সাঁতারের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখন ওই জায়গাটিকে কেন্দ্র করে বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি

ফাসায়িলের কৃষক সাদ নিমেরের জমিতে সাধারণত বেগুন, জুচিনি ও তরমুজের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হতো। কিন্তু পানির সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও জমিতে নতুন করে ফসল লাগাতে পারেননি তিনি।

তার ভাষ্য, পানির সরবরাহ বন্ধ থাকায় শুধু কৃষিকাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বহু পরিবারের কর্মসংস্থান ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঝরনার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি কৃষকদের কর্মীদের ওপর হামলা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জানিয়েছেন, এখন সেখানে বিপুলসংখ্যক ইহুদি মানুষ সাঁতার কাটতে আসেন। ফলে ফিলিস্তিনিরা ওই এলাকায় আসতে ভয় পান।

দখলের সঙ্গে বাড়ছে পানির সংকট

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর হামলা এখন বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অন্তত ১৬০টি পানি ও পয়োনিষ্কাশন স্থাপনায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, পানি ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে নিজেদের জমিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

পানি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আদেল ইয়াসিন এই পরিস্থিতিকে ‘পানিযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গুলি বা বিস্ফোরণের মতো সরাসরি শব্দ না থাকলেও পানির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া ফিলিস্তিনিদের জীবন ও জীবিকাকে ধীরে ধীরে অচল করে দিচ্ছে।

জর্ডান উপত্যকায় ঝরনা দখলের অভিযোগ

ফিলিস্তিনি মাঠগবেষক ফারেস ফোকাহার দাবি, উত্তর জর্ডান উপত্যকার প্রায় ৯৫ শতাংশ ঝরনার নিয়ন্ত্রণ এখন বসতি স্থাপনকারীদের হাতে চলে গেছে। এর ফলে বেশ কিছু ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় নিজেদের বসতভূমি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামেও কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িকে ঘিরে অবরোধের পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।

ফিলিস্তিনিদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য কেবল পানি দখল নয়; বরং কৃষিকাজ, পশুপালন, বসবাস ও দৈনন্দিন জীবনকে ক্রমশ কঠিন করে তুলে মানুষকে নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য করা।

The Palestinian freshwater springs being seized by Israeli settlers | Reuters

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার অভিযোগ

ফাসায়িলের ওই প্রাচীন জলাধার নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ দাবি করছে, জলাধারটি প্রাচীন ইহুদি রাজা হেরোদের সময়কার।

তবে ইসরায়েলি প্রত্নতত্ত্ববিদ আলোন আরাদের মতে, জলাধারটির প্রকৃত ঐতিহাসিক পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তার অভিযোগ, পশ্চিম তীরকে একচেটিয়াভাবে ইহুদি ভূখণ্ড হিসেবে উপস্থাপনের জন্য প্রত্নতত্ত্বকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তার আরও দাবি, প্রাচীন স্থাপনাটিকে পানিতে ভরিয়ে সেখানে মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা করায় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জলাধারের পাশে এমন একটি প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হিসেবে জলাধারটির পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন, যে পানি দিয়ে তাদের জমি সেচ দেওয়া হতো, সেই পানি কীভাবে তাদের চোখের সামনে একটি বিনোদনকেন্দ্রের পুকুরে পরিণত হলো?

নাবলুসের ঝরনাতেও বাড়ছে আতঙ্ক

নাবলুসের কাছে ওয়াদি আল-বাধানের প্রাকৃতিক ঝরনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিনোদন ও অবকাশযাপনের জায়গা ছিল। চলতি বছরের আগে সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ খুব একটা দেখা যায়নি।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শত শত বসতি স্থাপনকারী সেখানে গিয়ে ঝরনার পানিতে সময় কাটিয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে এলাকাটির স্বাভাবিক পরিবেশও বদলে গেছে।

প্রাকৃতিক ঝরনা কেন্দ্রের মালিক নিজাম ফারেস বলেন, মানুষ এখন সেখানে যাওয়ার আগে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। বসতি স্থাপনকারীরা আসছে কি না, সেটি নিশ্চিত না হয়ে অনেকে সেখানে যেতে চান না।

পানি এখন পশ্চিম তীরের নতুন সংঘাতের কেন্দ্র

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল ও সহিংসতার পাশাপাশি পানির উৎস নিয়ন্ত্রণও ক্রমেই বড় রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি ঝরনা যেখানে কৃষি, জীবিকা ও বসবাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেখানে একই পানিকে বিনোদনের পুকুরে পরিণত করার ঘটনা পরিস্থিতির গভীর বৈষম্যকে সামনে এনেছে।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের নিজ ভূমিতে টিকে থাকার সক্ষমতাই দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই কারণেই পশ্চিম তীরে পানি এখন শুধু জীবনধারণের উপাদান নয়, দখল ও নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়েরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিনিদের পানির অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে পশ্চিম তীরের এই ঘটনা। যে ঝরনার পানি একসময় কৃষিজমিকে বাঁচাত, সেই পানিই এখন বসতি স্থাপনকারীদের বিনোদনের পুকুরে—আর পানির উৎস হারিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের ফসলি জমি।