০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
ছুঁয়ে না দেখেই বস্তু চিনবে রোবট, চীনের নতুন ‘ইলেকট্রিক ইল’ প্রযুক্তিতে এআই এজেন্টের ভয়ংকর আচরণ: প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘হত্যা’, নজরদারি ফাঁকি ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ ভিসা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্টপুত্রের আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা হয়ে উঠতে পারে চীনের ইউয়ান, কমছে ডলারের নির্ভরতা জোকবো: পুরুষের বংশলিপির ভেতর নারীর হারানো ইতিহাস ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন অ্যাবি ডনেলি, নারীদের ম্যারাথনে ব্রিটেনের প্রথম পদক সিলিকনকে পেছনে ফেলে চীনের সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: রান্নার গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ভারতের নতুন উদ্যোগ হংকংয়ের জীবনধারা: খাওয়া, চলাফেরা আর সুস্থ থাকার নতুন কৌশল ইউক্রেনে রুশ হামলায় ইস্পাত কারখানায় নিহত ২, মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, ঝুঁকিও কম নয়

ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তবে ইরান ইতোমধ্যেই নৌ অবরোধ ও হাজারো নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকায় নতুন করে কীভাবে চাপ বাড়ানো হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলার কয়েকটি পথ খোলা আছে। তবে এসব পদক্ষেপ নিতে গিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতেও পাল্টা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ কতটা

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো প্রকাশ্যে জানায়নি, ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে তারা। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে ইরানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সংকুচিত করার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে।

বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরানের আর্থিক লেনদেন, তেল বিক্রি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিদেশি অংশীদারদের ওপর আরও কঠোর চাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একাধিক পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই ইরান তার নীতি বদলাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অতিরিক্ত চাপের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

 

চীনের ভূমিকা বড় বাধা

ব্লুমবার্গ অর্থনীতির বিশ্লেষক ক্রিস কেনেডির মতে, ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কতটা কঠোর হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে চীনের সঙ্গে তাদের বৃহত্তর সম্পর্কের ওপর।

তার বিশ্লেষণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি ইরান ইস্যুকে চীনসহ অন্যান্য বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকারের ওপরে স্থান না দেন, তাহলে নতুন পদক্ষেপ ইরানের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নাও পারে।

চাপ বাড়ালে পাল্টা ঝুঁকিও রয়েছে

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার নতুন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে তেল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়লে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটনের সামনে এখন মূল প্রশ্ন শুধু ইরানের ওপর আরও কতটা চাপ দেওয়া যায় তা নয়; বরং সেই চাপ প্রয়োগের পর তার অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের ওপর নতুন করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিংবা আদৌ নেওয়া হবে কি না—এখনো তা স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছুঁয়ে না দেখেই বস্তু চিনবে রোবট, চীনের নতুন ‘ইলেকট্রিক ইল’ প্রযুক্তিতে

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, ঝুঁকিও কম নয়

০৬:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তবে ইরান ইতোমধ্যেই নৌ অবরোধ ও হাজারো নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকায় নতুন করে কীভাবে চাপ বাড়ানো হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলার কয়েকটি পথ খোলা আছে। তবে এসব পদক্ষেপ নিতে গিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতেও পাল্টা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ কতটা

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো প্রকাশ্যে জানায়নি, ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে তারা। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে ইরানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সংকুচিত করার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে।

বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরানের আর্থিক লেনদেন, তেল বিক্রি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিদেশি অংশীদারদের ওপর আরও কঠোর চাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একাধিক পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই ইরান তার নীতি বদলাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অতিরিক্ত চাপের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

 

চীনের ভূমিকা বড় বাধা

ব্লুমবার্গ অর্থনীতির বিশ্লেষক ক্রিস কেনেডির মতে, ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কতটা কঠোর হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে চীনের সঙ্গে তাদের বৃহত্তর সম্পর্কের ওপর।

তার বিশ্লেষণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি ইরান ইস্যুকে চীনসহ অন্যান্য বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকারের ওপরে স্থান না দেন, তাহলে নতুন পদক্ষেপ ইরানের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নাও পারে।

চাপ বাড়ালে পাল্টা ঝুঁকিও রয়েছে

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার নতুন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে তেল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়লে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটনের সামনে এখন মূল প্রশ্ন শুধু ইরানের ওপর আরও কতটা চাপ দেওয়া যায় তা নয়; বরং সেই চাপ প্রয়োগের পর তার অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের ওপর নতুন করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিংবা আদৌ নেওয়া হবে কি না—এখনো তা স্পষ্ট নয়।