০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
মাতৃত্ব আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমায়নি, বরং কোন কাজ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে এনরনের ছায়া, তবে ধস অনিবার্য নয় বিষণ্নতা আসার আগেই জানাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চার বছর আগেই মিলবে সতর্কবার্তা ছুঁয়ে না দেখেই বস্তু চিনবে রোবট, চীনের নতুন ‘ইলেকট্রিক ইল’ প্রযুক্তিতে এআই এজেন্টের ভয়ংকর আচরণ: প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘হত্যা’, নজরদারি ফাঁকি ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ ভিসা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্টপুত্রের আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা হয়ে উঠতে পারে চীনের ইউয়ান, কমছে ডলারের নির্ভরতা জোকবো: পুরুষের বংশলিপির ভেতর নারীর হারানো ইতিহাস ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন অ্যাবি ডনেলি, নারীদের ম্যারাথনে ব্রিটেনের প্রথম পদক সিলিকনকে পেছনে ফেলে চীনের সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: রান্নার গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ভারতের নতুন উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় দেশে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলোর জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৬৩ হাজার ৮১০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।

সরকারের ১৩ আগস্টের এক আদেশে এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা।

হরমুজ সংকটে আমদানিতে বড় ধাক্কা

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর আগে ভারতের রান্নার গ্যাস আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসত মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে ওই অঞ্চলের সরবরাহপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য মজুত গড়ে তুলতে চাইছে ভারত।

শোধনাগারগুলোর জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য

সরকার প্রতিটি তেল শোধনাগারের জন্য আলাদা উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশটির অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের অভ্যন্তরীণ বাজারকেন্দ্রিক শোধনাগারকে প্রতিদিন ১৮ হাজার টন রান্নার গ্যাস উৎপাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান এবং তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকেও জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে জাতীয় লক্ষ্যের প্রায় ১০ শতাংশ উৎপাদনে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবহন ও মজুত ব্যবস্থাও জোরদার

শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, উৎপাদিত গ্যাস সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী রেলপথ ও সড়কপথে ট্যাংকার ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

সরকার জানিয়েছে, প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী তা হালনাগাদ করা হবে। নতুন শোধনাগার চালু হওয়া কিংবা বিদ্যমান শোধনাগারে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে সেই অনুযায়ী লক্ষ্যও পরিবর্তন করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও মজুত বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাতৃত্ব আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমায়নি, বরং কোন কাজ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: রান্নার গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ভারতের নতুন উদ্যোগ

০৭:০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় দেশে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলোর জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৬৩ হাজার ৮১০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।

সরকারের ১৩ আগস্টের এক আদেশে এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা।

হরমুজ সংকটে আমদানিতে বড় ধাক্কা

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর আগে ভারতের রান্নার গ্যাস আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসত মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে ওই অঞ্চলের সরবরাহপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য মজুত গড়ে তুলতে চাইছে ভারত।

শোধনাগারগুলোর জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য

সরকার প্রতিটি তেল শোধনাগারের জন্য আলাদা উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশটির অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের অভ্যন্তরীণ বাজারকেন্দ্রিক শোধনাগারকে প্রতিদিন ১৮ হাজার টন রান্নার গ্যাস উৎপাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান এবং তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকেও জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে জাতীয় লক্ষ্যের প্রায় ১০ শতাংশ উৎপাদনে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবহন ও মজুত ব্যবস্থাও জোরদার

শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, উৎপাদিত গ্যাস সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী রেলপথ ও সড়কপথে ট্যাংকার ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

সরকার জানিয়েছে, প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী তা হালনাগাদ করা হবে। নতুন শোধনাগার চালু হওয়া কিংবা বিদ্যমান শোধনাগারে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে সেই অনুযায়ী লক্ষ্যও পরিবর্তন করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও মজুত বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।