অন্ধকার ও ঘোলাটে পানিতে শিকার খুঁজতে বৈদ্যুতিক ইল নিজের চারপাশে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে। সেই প্রাকৃতিক কৌশল থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন সংবেদক তৈরি করেছেন, যা রোবটকে কোনো বস্তু স্পর্শ করার আগেই সেটি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
স্পর্শের আগেই বুঝবে কী আছে সামনে
শুধু ক্যামেরার ওপর নির্ভর না করে রোবট যদি সামনে থাকা কোনো বস্তুর উপস্থিতি, গঠন ও উপাদান স্পর্শ ছাড়াই বুঝতে পারে, তাহলে মানুষের মতো আরও স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। চীনের শিয়ানডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝাং ওয়েইচিয়াংয়ের নেতৃত্বে গবেষকরা সেই লক্ষ্যেই বৈদ্যুতিক ইলের শিকার শনাক্ত করার পদ্ধতি অনুকরণ করেছেন।
গবেষকদের তৈরি সংবেদকটি বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত এক ধরনের ফ্লুরোপলিমার দিয়ে তৈরি। এটি ক্ষুদ্র স্থির বৈদ্যুতিক ব্যাটারির মতো কাজ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিজের চারপাশে একটি স্থায়ী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
কোনো বস্তু সংবেদকের কাছে এলে ওই বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। সংবেদক সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে বস্তুটির বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা, তড়িৎ-অন্তরক বৈশিষ্ট্য এবং আকৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

ধাতু থেকে কাঠ—বিভিন্ন বস্তু শনাক্তের সম্ভাবনা
গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে ধাতু, প্লাস্টিক, কাচ ও কাঠের মতো বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব। অর্থাৎ রোবট কোনো বস্তু ধরার আগেই সেটি কী ধরনের উপাদানে তৈরি এবং তার পৃষ্ঠের অবস্থা কেমন—সে সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন পরিবেশে, যেখানে আলো কম, দৃশ্যমানতা সীমিত কিংবা ক্যামেরা দিয়ে বস্তুকে নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করা কঠিন।
রোবটের নিরাপদ কাজের নতুন সম্ভাবনা
এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে রোবটের হাত ও অন্যান্য যান্ত্রিক অংশকে আরও বুদ্ধিমান করে তুলতে পারে। কোনো ভঙ্গুর বস্তু ধরার আগে তার প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে রোবট অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে পারবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থা এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করা রোবটের নিরাপত্তাও বাড়তে পারে।
তবে প্রযুক্তিটি এখনো প্রাথমিক গবেষণার পর্যায়ে। বাস্তব পরিবেশে কত দূর থেকে নির্ভুলভাবে বস্তু শনাক্ত করা যাবে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের মধ্যে এর কার্যকারিতা কেমন থাকবে এবং বড় পরিসরে রোবটের সঙ্গে কীভাবে এটি যুক্ত করা যাবে—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
প্রকৃতির একটি অসাধারণ কৌশলকে প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, ভবিষ্যতের রোবট শুধু চোখ দিয়ে দেখবে না—স্পর্শ করার আগেই আশপাশের জগতের বৈশিষ্ট্যও বুঝতে শুরু করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















