০৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
মাতৃত্ব আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমায়নি, বরং কোন কাজ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে এনরনের ছায়া, তবে ধস অনিবার্য নয় বিষণ্নতা আসার আগেই জানাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চার বছর আগেই মিলবে সতর্কবার্তা ছুঁয়ে না দেখেই বস্তু চিনবে রোবট, চীনের নতুন ‘ইলেকট্রিক ইল’ প্রযুক্তিতে এআই এজেন্টের ভয়ংকর আচরণ: প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘হত্যা’, নজরদারি ফাঁকি ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ ভিসা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্টপুত্রের আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা হয়ে উঠতে পারে চীনের ইউয়ান, কমছে ডলারের নির্ভরতা জোকবো: পুরুষের বংশলিপির ভেতর নারীর হারানো ইতিহাস ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন অ্যাবি ডনেলি, নারীদের ম্যারাথনে ব্রিটেনের প্রথম পদক সিলিকনকে পেছনে ফেলে চীনের সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য

ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন অ্যাবি ডনেলি, নারীদের ম্যারাথনে ব্রিটেনের প্রথম পদক

বার্মিংহামে নিজের ঘরের দর্শকদের সামনে ইতিহাস গড়লেন ব্রিটেনের অ্যাবি ডনেলি। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের নারীদের ম্যারাথনে ব্রোঞ্জ জিতে তিনি এই ইভেন্টে গ্রেট ব্রিটেনের হয়ে প্রথম পদক এনে দিয়েছেন।

২৯ বছর বয়সী ডনেলির জন্য অর্জনটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে ঘরের মাঠে প্রতিযোগিতা করার কারণে। দৌড়ের সময় দর্শকদের মুখে নিজের নাম শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ডনেলি বলেন, বার্মিংহামে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য এবং এর অর্থ তাঁর কাছে অনেক বেশি।

শুরু থেকেই ছিল কঠিন লড়াই

দৌড়ের শুরুতেই ফিনল্যান্ডের প্রতিযোগী ভাইনিও অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে এগিয়ে যান। পেছনের দলটিতে দীর্ঘ সময় ডনেলি ও তাঁর সতীর্থ উইলসন একসঙ্গে দৌড়ান। ডনেলির মতে, পুরো দৌড়জুড়ে সতীর্থকে পাশে পাওয়াটা তাঁর জন্য বড় সহায়তা ছিল।

পরে হাঙ্গেরির ভিনডিচ-তোথ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গতি বাড়িয়ে মূল দল থেকে বেরিয়ে যান। ডনেলিও তাঁর পিছু নেন। শেষের দিকে খাড়া উতরাই-চড়াই পেরিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যান এবং বিজয়ীর ১২ সেকেন্ড পর ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন।

পাহাড়ি পথেও হার মানেননি

দৌড় শেষে ডনেলি জানান, পুরো পথটি ছিল অত্যন্ত কঠিন ও পাহাড়ি। বিশেষ করে শুরুতে তিনি সচেতনভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, কারণ জানতেন পরের দিকে উঁচুনিচু পথ শরীরে বড় চাপ ফেলবে।

তিনি বলেন, এমনকি নিচের দিকে নামার সময়ও পায়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়েছে। দৌড় শেষ করার পর তাঁর পায়ের পেশিগুলো যেন আর কাজ করছিল না।

Image

মাঠের দৌড় থেকে ম্যারাথনে সাফল্য

একসময় ডনেলি মূলত দীর্ঘপথের মাঠের দৌড়ের প্রতিযোগী ছিলেন। ইউরোপীয় মাঠের দৌড় চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ব্রিটেনের হয়ে দুটি দলগত স্বর্ণপদকও জিতেছেন।

এরপর সড়কের দৌড়ে মনোযোগ দেন তিনি। ২০২৪ সালে রোমে নিজের প্রথম ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অর্ধম্যারাথনের দলগত বিভাগে স্বর্ণ জেতেন।

এবার বার্মিংহামে ব্যক্তিগত ম্যারাথনে ব্রোঞ্জ জিতে নিজের সাফল্যের তালিকায় যোগ করলেন আরও বড় এক অধ্যায়।

ঘরের দর্শকদের সামনে গর্বিত ডনেলি

ডনেলি জানান, প্রতিযোগিতার আগে দলের সবাই স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে ব্রোঞ্জ পেলেও পুরো দলের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত।

দৌড়ের জগতের মানুষের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কাছে এই খেলাটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বন্ধুত্ব, দলীয় আবহ এবং দৌড় শেষ করার পরের বিশেষ অনুভূতি।

বার্মিংহামের দর্শকদের সামনে ঐতিহাসিক এই পদক জিতে ডনেলি তাই শুধু নিজের ক্যারিয়ারেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, ব্রিটিশ নারীদের ম্যারাথনের ইতিহাসেও নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাতৃত্ব আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমায়নি, বরং কোন কাজ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়েছে

ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন অ্যাবি ডনেলি, নারীদের ম্যারাথনে ব্রিটেনের প্রথম পদক

০৭:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বার্মিংহামে নিজের ঘরের দর্শকদের সামনে ইতিহাস গড়লেন ব্রিটেনের অ্যাবি ডনেলি। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের নারীদের ম্যারাথনে ব্রোঞ্জ জিতে তিনি এই ইভেন্টে গ্রেট ব্রিটেনের হয়ে প্রথম পদক এনে দিয়েছেন।

২৯ বছর বয়সী ডনেলির জন্য অর্জনটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে ঘরের মাঠে প্রতিযোগিতা করার কারণে। দৌড়ের সময় দর্শকদের মুখে নিজের নাম শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ডনেলি বলেন, বার্মিংহামে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য এবং এর অর্থ তাঁর কাছে অনেক বেশি।

শুরু থেকেই ছিল কঠিন লড়াই

দৌড়ের শুরুতেই ফিনল্যান্ডের প্রতিযোগী ভাইনিও অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে এগিয়ে যান। পেছনের দলটিতে দীর্ঘ সময় ডনেলি ও তাঁর সতীর্থ উইলসন একসঙ্গে দৌড়ান। ডনেলির মতে, পুরো দৌড়জুড়ে সতীর্থকে পাশে পাওয়াটা তাঁর জন্য বড় সহায়তা ছিল।

পরে হাঙ্গেরির ভিনডিচ-তোথ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গতি বাড়িয়ে মূল দল থেকে বেরিয়ে যান। ডনেলিও তাঁর পিছু নেন। শেষের দিকে খাড়া উতরাই-চড়াই পেরিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যান এবং বিজয়ীর ১২ সেকেন্ড পর ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন।

পাহাড়ি পথেও হার মানেননি

দৌড় শেষে ডনেলি জানান, পুরো পথটি ছিল অত্যন্ত কঠিন ও পাহাড়ি। বিশেষ করে শুরুতে তিনি সচেতনভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, কারণ জানতেন পরের দিকে উঁচুনিচু পথ শরীরে বড় চাপ ফেলবে।

তিনি বলেন, এমনকি নিচের দিকে নামার সময়ও পায়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়েছে। দৌড় শেষ করার পর তাঁর পায়ের পেশিগুলো যেন আর কাজ করছিল না।

Image

মাঠের দৌড় থেকে ম্যারাথনে সাফল্য

একসময় ডনেলি মূলত দীর্ঘপথের মাঠের দৌড়ের প্রতিযোগী ছিলেন। ইউরোপীয় মাঠের দৌড় চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ব্রিটেনের হয়ে দুটি দলগত স্বর্ণপদকও জিতেছেন।

এরপর সড়কের দৌড়ে মনোযোগ দেন তিনি। ২০২৪ সালে রোমে নিজের প্রথম ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অর্ধম্যারাথনের দলগত বিভাগে স্বর্ণ জেতেন।

এবার বার্মিংহামে ব্যক্তিগত ম্যারাথনে ব্রোঞ্জ জিতে নিজের সাফল্যের তালিকায় যোগ করলেন আরও বড় এক অধ্যায়।

ঘরের দর্শকদের সামনে গর্বিত ডনেলি

ডনেলি জানান, প্রতিযোগিতার আগে দলের সবাই স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে ব্রোঞ্জ পেলেও পুরো দলের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত।

দৌড়ের জগতের মানুষের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কাছে এই খেলাটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বন্ধুত্ব, দলীয় আবহ এবং দৌড় শেষ করার পরের বিশেষ অনুভূতি।

বার্মিংহামের দর্শকদের সামনে ঐতিহাসিক এই পদক জিতে ডনেলি তাই শুধু নিজের ক্যারিয়ারেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, ব্রিটিশ নারীদের ম্যারাথনের ইতিহাসেও নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন।