জাপানের পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের এক মাসের মধ্যেই এমন দুর্যোগে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ, দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং ভূমিধসের আশঙ্কা।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাত শুক্রবার ও শনিবার আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে চিবা অঞ্চলের জন্য প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়।
ছয় দশকের রেকর্ড বৃষ্টিপাত
চিবা প্রদেশের একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ছয় দশকের মধ্যে আগস্ট মাসে ওই এলাকায় এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
চিবা শহরে শুক্রবার সকাল নাগাদ যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণত পুরো আগস্ট মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় তার তিন গুণেরও বেশি। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকা দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়।
পানিতে আটকা পড়ে মৃত্যু
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। তাদের কয়েকজন পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। অন্য কয়েকজনকে প্লাবিত সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে রোববার সকালে স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে।
চিবা অঞ্চলে ৭০টিরও বেশি বাড়ি বৃষ্টির পানিতে আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এক হাজারের বেশি পরিবার তাদের বাড়িঘরে পানি ঢোকার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি বাড়িতে মেঝের ওপর দিয়ে পানি উঠে যায়।
সড়কে পড়ে আছে ১,২০০ গাড়ি
বন্যার পানিতে বিভিন্ন সড়কে প্রায় ১ হাজার ২০০ গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসব গাড়ি সরিয়ে নিতে কাজ করছে। কোথাও গাড়ি টেনে নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে সেগুলো সরানোর চেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। বন্যার পানিতে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘অভূতপূর্ব’ বৃষ্টির সতর্কতা
জাপানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে তা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা আগেই তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে। একই সঙ্গে এসব দুর্যোগ আগের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে।
জাপানের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগও সেই পরিবর্তিত আবহাওয়ার ঝুঁকির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানে ভয়াবহ বৃষ্টি ও বন্যায় প্রাণহানি, ঘরবাড়ি প্লাবিত এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















