০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে এনরনের ছায়া, তবে ধস অনিবার্য নয় বিষণ্নতা আসার আগেই জানাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চার বছর আগেই মিলবে সতর্কবার্তা ছুঁয়ে না দেখেই বস্তু চিনবে রোবট, চীনের নতুন ‘ইলেকট্রিক ইল’ প্রযুক্তিতে এআই এজেন্টের ভয়ংকর আচরণ: প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘হত্যা’, নজরদারি ফাঁকি ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ ভিসা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্টপুত্রের আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা হয়ে উঠতে পারে চীনের ইউয়ান, কমছে ডলারের নির্ভরতা জোকবো: পুরুষের বংশলিপির ভেতর নারীর হারানো ইতিহাস ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন অ্যাবি ডনেলি, নারীদের ম্যারাথনে ব্রিটেনের প্রথম পদক সিলিকনকে পেছনে ফেলে চীনের সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: রান্নার গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ভারতের নতুন উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা জাহাজে বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা ২১ নাবিক

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা নোঙর এলাকায় নোঙর করে থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে ধাক্কা দিয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি।

প্রবল স্রোতের মধ্যে সংঘর্ষ

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন বর্জ্যজাত ভারী পণ্য বহনকারী ‘এমভি আনাসা’ নামের জাহাজটি আলফা নোঙর এলাকায় প্রবেশের সময় প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে। এ সময় নোঙর করে থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর সামনের অংশে ধাক্কা লাগে।

‘এমভি আনাসা’ জাহাজে ২১ জন নাবিক ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দুই জাহাজই নিরাপদভাবে আলাদা হয়ে আবার নোঙর করে। বন্দরের নৌ চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

জাহাজে বড় ধরনের ক্ষতির চিহ্ন নেই

ঘটনার পর নিরাপদ স্থানে নিয়ে দুই জাহাজের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরিদর্শনে দেখা গেছে, ‘এমভি আনাসা’ নিরাপদ অবস্থায় পানিতে ভাসছে। জাহাজটির কোথাও পানি ঢোকেনি এবং তেল বা অন্য কোনো তরল পদার্থও বের হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজটিতে একদিকে কাত হয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি।

জাহাজটির সামনের অংশের পানির নিচে ডোবার গভীরতা ১১ দশমিক ৪০ মিটার, মাঝের অংশে ১১ দশমিক ৪৫ মিটার এবং পেছনের অংশে ১১ দশমিক ৫০ মিটার পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় জাহাজটি নিরাপদে চলাচল করতে পারবে কি না, তা যাচাই করেও নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমার মধ্যেই রয়েছে বলে দেখা গেছে।

এর প্রধান ইঞ্জিন, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা, বিভিন্ন পাম্প এবং জরুরি ব্যবস্থাগুলোও পরীক্ষা করা হয়েছে। সবগুলোই সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দুই জাহাজের বিস্তারিত পরীক্ষা হবে

২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে তৈরি ‘এমভি আনাসা’ জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২৪ মিটার। জাহাজটি এর আগে অন্য দুটি নামে চলাচল করেছে।

অন্যদিকে ২০০০ সালে নির্মিত বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৯ দশমিক ৮৩ মিটার এবং প্রস্থ ৩১ মিটার।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর বন্দরের নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে দুই জাহাজের কাঠামোগত ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী সমুদ্রযাত্রার আগে ‘এমভি আনাসা’-র মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তাও পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রবল স্রোত যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ হয়ে থাকল।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে এনরনের ছায়া, তবে ধস অনিবার্য নয়

চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা জাহাজে বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা ২১ নাবিক

০৬:৫২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা নোঙর এলাকায় নোঙর করে থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে ধাক্কা দিয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি।

প্রবল স্রোতের মধ্যে সংঘর্ষ

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন বর্জ্যজাত ভারী পণ্য বহনকারী ‘এমভি আনাসা’ নামের জাহাজটি আলফা নোঙর এলাকায় প্রবেশের সময় প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে। এ সময় নোঙর করে থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর সামনের অংশে ধাক্কা লাগে।

‘এমভি আনাসা’ জাহাজে ২১ জন নাবিক ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দুই জাহাজই নিরাপদভাবে আলাদা হয়ে আবার নোঙর করে। বন্দরের নৌ চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

জাহাজে বড় ধরনের ক্ষতির চিহ্ন নেই

ঘটনার পর নিরাপদ স্থানে নিয়ে দুই জাহাজের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরিদর্শনে দেখা গেছে, ‘এমভি আনাসা’ নিরাপদ অবস্থায় পানিতে ভাসছে। জাহাজটির কোথাও পানি ঢোকেনি এবং তেল বা অন্য কোনো তরল পদার্থও বের হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজটিতে একদিকে কাত হয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি।

জাহাজটির সামনের অংশের পানির নিচে ডোবার গভীরতা ১১ দশমিক ৪০ মিটার, মাঝের অংশে ১১ দশমিক ৪৫ মিটার এবং পেছনের অংশে ১১ দশমিক ৫০ মিটার পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় জাহাজটি নিরাপদে চলাচল করতে পারবে কি না, তা যাচাই করেও নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমার মধ্যেই রয়েছে বলে দেখা গেছে।

এর প্রধান ইঞ্জিন, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা, বিভিন্ন পাম্প এবং জরুরি ব্যবস্থাগুলোও পরীক্ষা করা হয়েছে। সবগুলোই সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দুই জাহাজের বিস্তারিত পরীক্ষা হবে

২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে তৈরি ‘এমভি আনাসা’ জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২৪ মিটার। জাহাজটি এর আগে অন্য দুটি নামে চলাচল করেছে।

অন্যদিকে ২০০০ সালে নির্মিত বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৯ দশমিক ৮৩ মিটার এবং প্রস্থ ৩১ মিটার।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর বন্দরের নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে দুই জাহাজের কাঠামোগত ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী সমুদ্রযাত্রার আগে ‘এমভি আনাসা’-র মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তাও পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রবল স্রোত যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ হয়ে থাকল।